অবৈধ পণ্য আমদানি ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে উত্তর কোরিয়ার এক কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে সরকার। উত্তর কোরিয়া দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি হান সন ইককে সোমবারের মধ্যে ঢাকা ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সূত্র জানায়, উত্তর কোরিয়ার কিছু কূটনীতিকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে বেশ কয়েকদিন ধরে। কূটনৈতিক শিষ্টাচারকে উপেক্ষা করে স্বর্ণ, মদ, ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীসহ অন্যান্য অবৈধ পণ্য আমদানির বেশকিছু তথ্য উদঘাটন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগ। অভিযুক্ত কূটনীতিকদের বিষয়ে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিতে অনুরোধ জানিয়ে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিল।
আগেও ঢাকাস্থ উত্তর কোরিয়ার কয়েকজন কূটনীতিকের অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। তবে সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার দূতাবাসের নামে আসা একটি কন্টেইনার পরীক্ষা করে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা দামের ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী, বিদেশি সিগারেটসহ অবৈধ পণ্য পাওয়া যায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুল্ক ও গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা গত মাসে কমলাপুর আইসিডিতে অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ পণ্য জব্দ করে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান ইত্তেফাককে বলেন, অতীতেও এ দূতাবাসের কিছু কূটনীতিকের শুল্ক সংক্রান্ত অপরাধ প্রমাণ হয়েছে। স্বর্ণ, মদ, যৌন উত্তেজন ওষুধসহ অন্যান্য অবৈধ পণ্য উদ্ধার করেছি। একজন কূটনীতিকের কাছ থেকে ২৭ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। গুলশানের একটি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে মদ ও অন্যান্য অবৈধ পণ্য আটক করা হয়। তখন সরকারি কাজে তারা বাধা দিয়েছিলেন। ২০১২ সালেও মদের চালান আটক করে ২৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
