বর্ষা এলেই পাহাড়ি ঝিরি-ঝরনার জল-কল্লোলে মৃতপ্রায় প্রকৃতিতে ফিরে আসে প্রাণ। এ সময় মেঘ-বৃষ্টির স্পর্শে সজীব হয়ে ওঠে পাহাড়ি জনপদ। বৃষ্টি ধোয়া সতেজ পাতায় পাতায় ঝলমলিয়ে ওঠে রোদ। বাংলাদেশের পার্বত্য জেলাগুলোর পাহাড়ি শোভা ফুটে ওঠে এ মৌসুমে। বিগত শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয় ছড়াগুলোতে যে পানি সংকট দেখা দিয়েছিল তা অনেকটাই কেটে গেছে এখন। নির্জীব প্রকৃতিতে আবার জেগেছে প্রাণের স্পন্দন। দূর থেকে দেখে মনে হয় পাহাড়জুড়ে প্রকৃতি যেন বিছিয়ে দিয়েছে সবুজ কার্পেট। চারদিকে সবুজের সমারোহ, শান্তির অনাবিল আনন্দ।
পাহাড়ে পানির প্রাকৃতিক উত্সস্থল এই ঝিরি-ঝরনা, ছড়া, খাল, নদীগুলো এখন পানিতে পরিপূর্ণ। পাহাড়চূড়া থেকে নেমে আসা এই ঝিরি-ঝরনা-ছড়াগুলো দূর করেছে স্থানীয়দের বিশুদ্ধ জলের অভাব। দুর্গম পাহাড়ি পাড়া-মহল্লার বাসিন্দাদেরও দূর দূরান্ত থেকে খাবার পানি আনতে যেতে হয় না।
বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়ের বাসিন্দা মেনরুং ম্রো, টাইগার পাড়ার বাসিন্দা উজলা ত্রিপুরাসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান, বর্ষা এলেই পাহাড়ের ঝিরি-ঝরনা, খাল-নদীগুলো পানিতে ভরে ওঠে। শুষ্ক মৌসুমে এখানে পানির সংকট থাকলেও বর্ষায় কোনো সংকট থাকে না। তবে শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ের বাসিন্দাদের ভরসা হয় রিংওয়েল, টিওব-ওয়েলগুলো। নষ্ট অবস্থায় পড়ে থাকা রিংওয়েল, টিওব-ওয়েলগুলো সংস্কার করে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে জানান তারা।
যারা পাহাড় দেখেননি তাদের জন্য পাহাড় ঘুরে আসার মোক্ষম সময় এটাই। আষাঢ় এলেই পাহাড়ে পাহাড়ে চলে মেঘের খেলা। সবুজ পাহাড়ের আঁঁকাবাঁকা পথে বেড়াতে ভালো লাগবে এখন। সবুজে সবুজে পর্যটকদের কাছে এ সময় পাহাড় ধরা দেয় এক অনন্য রূপে। যে কেউ নাগরিক ছক থেকে বেরিয়ে এসে দিন কয়েকের জন্য হারিয়ে যেতে পারেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বান্দরবানে।
পাহাড়ে শুষ্ক মৌসুমে সৃষ্ট পানির সমস্যা নিয়ে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিভাগের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সহোরাব হোসেন জানান, চাহিদার বিপরীতে শতকরা ৪৯.২০% বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট দেখা দিলেও বর্ষায় ঝিরি-ঝরনাগুলো পানিতে ভরপুর থাকায় চাহিদামত পানি ব্যবহার করতে পারে স্থানীয় অধিবাসীরা। এছাড়াও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য রিংওয়েল, টিউব-ওয়েল এবং জিএফএস নির্মাণ কার্যক্রম চলছে।
ইত্তেফাক / এ এন
