বার্সেলোনার হয়ে জোড়া গোল করে জয় পয়েছেন লিওনেল মেসি। জিতেছেন গাম্পার ট্রফি। অথচ তার এই বিজয়ের দিন রিও অলিম্পিক ফুটবলে টিকে থাকার লড়াইয়ে হন্ডুরাসের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে মেসির দেশ আর্জেন্টিনাকে। ২০০৪ ও ২০০৮ আসরের অলিম্পিকে স্বর্ণ পদক পাওয়া দলটির বিদায়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে হন্ডুরাস।
বুধবার গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর আন্তোনি লোজানোর গোলে এগিয়ে যায় হন্ডুরাস। যোগ করা সময়ে মাউরিসিও মার্তিনেসের গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা; কিন্তু কাঙ্ক্ষিত আরেকটি গোল পাওয়া হয়নি। ফলে ৭ পয়েন্ট পাওয়া পর্তুগালের কোয়ার্টার-ফাইনালে সঙ্গী হয়েছে হন্ডুরাসই। হন্ডুরাসের সমান আর্জেন্টিনার পয়েন্ট ৪ হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে বাদ পড়েছে তারা।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে আলজেরিয়ার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পর্তুগাল। প্রথম দুই রাউন্ড শেষে গোল ব্যবধানে আর্জেন্টিনার চেয়ে এগিয়ে থাকায় শেষ আট নিশ্চিত করতে ১ পয়েন্ট দরকার ছিল হন্ডুরাসের। সেই কৌশল নিয়েই মাঠে নামে তারা।
শুরু থেকে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা আর্জেন্টিনা কোনো সুযোগই কাজে লাগাতে পারেনি। তাদের সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে আক্রমণভাগের দুই ভরসা জোনাথান কায়েরি ও আনহেল কোয়েররা।
৩৮তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন কায়েরি। অনেক সময় পেয়েছিলেন তিনি, ধারে কাছে বাধা দেয়ার মতো কেউ ছিল না। কিন্তু বল লক্ষ্যেই রাখতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড। দুই মিনিট পর ডি বক্সের ভেতর থেকে গোলরক্ষক বরাবর মেরে সুযোগ হাতছাড়া করেন কোয়েররা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আর্জেন্টিনাকে চেপে ধরে প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলা হন্ডুরাস। এই সময়ে দারুণ ডাইভে একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক জেরোনিমো রুয়ি। একটু পরেই পেনাল্টি পায় হন্ডুরাস। তবে দারুণ ডাইভে ব্রায়ান একস্তার শট ঠেকিয়ে দেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ৫৪তম মিনিটে মার্সেলো পেরেরার ফাউলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। তবে কোরেয়ার শট পোস্টে লেগে বাইরে গেলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগটি নষ্ট হয়।
৭২তম মিনিটে আবার পেনাল্টি পায় হন্ডুরাস। এবার আর ফেরাতে পারেননি রুয়ি। লুজানোর শট তাকে ফাঁকি দিয়ে পৌঁছায় জালে। যোগ করা সময়ে ফ্রি-কিক থেকে মার্তিনেসের গোলে সমতা ফেরায় আর্জেন্টিনা। ক্ষণিকের জন্য আশা জাগলেও জয়সূচক গোলের দেখা আর পায়নি তারা।
