গুলশান হামলা: আদালতে ভারতীয় নাগরিকের জবানবন্দি

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৬, ২০:৪৯
 
‘আমি পুরোপুরি আমার মাথা টেবিলে ঠেকিয়ে রাখতে পারছিলাম না, তখন কেউ আমার মাথায় আঘাত করে। ওই মেয়েরা ও এক যুবক হামলাকারীর কাছে অনুরোধ করছিল তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার জন্য। হামলাকারী জবাব দেয়, আমাদের বিবেচনায় আপনারা যদি কাফের না হন, তাহলে আমরা আপনাদের কোনো ক্ষতি করবো না।’
 
গুলশানে জঙ্গি হামলায় হলি আর্টিজান থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন ভারতীয় নাগরিক সাত প্রকাশ। আদালতে স্বাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। সেখানেই ওই দিনের ঘটনা বর্ণণা করেছেন তিনি। গত ২৬ জুলাই এই জবানবন্দী গ্রহণ করেন আদালত। তিনিই প্রথম স্বাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। 
 
আট পৃষ্ঠায় ইংরেজিতে লিখিত জবানবন্দীতে তিনি বলেছেন, ‘দিনটি ছিল শুক্রবার। আমি হলি আর্টিজান বেকারিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। সেখানে আমি আমার গাড়ি নিয়ে যাই। আমার গাড়ি সেখানে পার্কিং করি। রাত সাড়ে আটটার দিকে আমি ভেতরেই ছিলাম। আমি সামনের দিকে মুখ করা কোণার দিকের টেবিলে বসি। এ সময় তন্ময় নামে আমার এক বন্ধুকে ফোন করি। সে আমাকে জানায়, খাবার মিস করতে চায় না; কিন্তু তার আসতে দেরি হবে। আমি পাস্তা ও কমলার জুস অর্ডার দেই। তারা আমাকে কমপ্লিমেন্টারি হিসেবে পাউরুটি ও সসেজ দিলো।’
 
তিনি বলেন, আমি আমার বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। হঠাত্ আমি দুই তিনজন ছেলেকে দেখতে পাই। তারা ধাক্কাধাক্কি করে রেস্টুরেন্টের প্রধান গেট দিয়ে ঢুকছিল। এমন সময় একটা শব্দ শুনতে পেলাম, যা আমার কাছে বোমার শব্দের মতো মনে হলো। হঠাত্ ছয় সাতজন রেস্টুরেন্টের দিকে দৌড়ে এলেন। আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালাম। স্থবির হয়ে গেলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি গুলির শব্দ শুনতে পেলাম। একজনকে পড়ে যেতে দেখলাম। একই সময়ে আমি ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনি শুনতে পেলাম। আমি একটি পিলারের আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করলাম। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আমি একজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় মুখে হাত দিয়ে দৌড়াতে দেখি। তাকে দেখতে চীন, জাপান বা কোরিয়ার মতো দূর প্রাচ্যের দেশগুলোর নাগরিকের মতো মনে হচ্ছিলো।
 
জবানবন্দিতে তিনি আরো বলেছেন, “আমি সম্ভাব্য ঝামেলার আশঙ্কায় ওই জায়গা থেকে সরে যাওয়ার কথা চিন্তা করলাম। সেখানে এক শ্রীলঙ্কান দম্পতিও ছিল, যাদের আমি আগে থেকেই চিনতাম। তারাও ওই পিলারের পেছনে লুকাতে আসেন। জানালা দিয়ে এক হামলাকারীকে উদ্ধত অবস্থায় দেখলাম। সে ধারালো বস্তু দিয়ে মাটিতে পড়ে থাকা একজনকে কোপাচ্ছিল। আমি চোখ খুললাম। কিছুক্ষণ পর দেখতে পেলাম, ওই দম্পতির দিকে এক হামলাকারী এগিয়ে এলো। সে বললো, লুকাবেন না, আমরা আপনার ক্ষতি করবো না। আপনারা ওখানে (পিলারের আড়ালে) নিরাপদ নন। দ্রুত বেরিয়ে আসুন। নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা বেরিয়ে এলাম। একজন আমাদের কাছে মোবাইল চাইলো। আমি তাকে মোবাইলটা দিয়ে দিলাম। শ্রীলঙ্কান দম্পতি (নারী) ব্যাগ ছুড়ে দিলো, সেটি গিয়ে হামলাকারীর কাছে পড়লো। হামলাকারী জানতে চাইলো আমি বাঙালি কিনা? আমি বললাম, ‘ইয়েস আমি বাঙালি’।”