শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ফেরি সার্ভিস ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এই নৌ রুটের লৌহজং টার্নিংয়ে আটকে পড়া পাথরবাহী জাহাজ চারদিনের মাথায় উদ্ধার হয়েছে। তবে সেখানে আকেটি বাল্গহেট আটকা পড়েছে। এছাড়া নাব্য সঙ্কট ক্রমেই বাড়ছে। ড্রেজিং করে কুলো যাচ্ছে না। তাই এই চ্যানেলে ফেরি সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পদ্মা সেতুর জন্য তৈরী করা চায়না চ্যানেলে ফেরিগুলো চলাচল করছিল গত দু’দিন ধরে। কিন্তু বৃহস্পতিবার পদ্মা সেতুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এই চ্যানেলে ফেরি চলাচলে ঘোর আপত্তি তোলে। তাই ঝুঁকি নিয়েই পুরনো চ্যানেলে আটকে পড়া পাথরবাহী জাহাজের পাশ দিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার থেকে ফেরি চলাচল করছে সীমিত আকারে। তাই যানজট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার উভয় পাড়ে প্রায় পৌনে তিনশ’ গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় আছে।
বিআইডব্লিউটিসির এজিএম শাহ নেওয়াজ খালিদ জানান, পাথর বোঝাই হাজাজটি মঙ্গলবার আটকা পরে। কিন্তু চার দিনের মাথায় এটি উদ্ধার করে বিআইডব্লিউটিএ। তারপর আবার আরেকটি পাথরবাকী নৌযান সেখানে আটকা পড়েছে। তাই ঝুঁকি নিয়েই দিনে ১৬টি এবং রাতে ১২টি ফেরি চলাচল করছে কম যানবাহন নিয়ে। এই ফেরি বহরে ১৭টি ফেরি রয়েছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরি সার্ভিস ব্যাহত হওয়ায় এ রুটে যানবাহনের চাপ বেশী।
পদ্মা সেতুর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার মি. জেফরি জানিয়েছেন, কোনো প্রকার অনুমতি না নিয়ে ফেরি সার্ভিস কর্তৃপক্ষ পদ্মা সেতুর কাজের জন্য তৈরী করা চ্যানেল দিয়ে ফেরি চালাতে শুরু করে। ঝুকির মধ্যে পড়ে পদ্মা সেতুর কাজ। ফেরিগুলো স্রোতের প্রতিকূলে ঠিকমত চলতে পারছিল না। স্রোতের টানে প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা সেতুর পাইলিংয়ের কাজে উপর এসে পরি পরি অবস্থায় অল্পের জন্য কয়েক দফা রক্ষা হয়েছে। এতে দেশের এই সর্ব বৃহত্ প্রকল্পের কথা ভেবে এই চ্যানেলে ফেরি চলাচলে আপত্তি করা হয়। এতে বৃহস্পতিবার বিকেল হতে আমরা এ চ্যানেলের মুখের দুই প্রান্তে পুলিশের টহল সহযোগিতার মাধ্যমে ফেরিগুলোতে এ চ্যানেলে ঢুকতে দিচ্ছি না। এ চ্যানেলের মুখে রয়েছে পদ্মা সেতুর তিনটি টেস্ট টাইল, চারটি এ্যঙ্কার পাইল, মাটি পরীক্ষার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। কোনো কারণে ফেরিগুলো এ সকল কাজ ও যন্ত্রপাতির উপর পড়ে ক্ষয়ক্ষতি করলে তাতে পদ্মা সেতুর কাজ পিছিয়ে যাবে। তাছাড়া এ চ্যানেল দিয়ে ফেরি চালাতে চাইলে আমাদের কাজের ক্ষতিপূরণের জন্য আমরা প্রতি দিন ১৫ কোটি টাকা ক্ষতি পূরণ দাবী করবো।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডোর মোজাম্মেল হক জানান, লৌহজং টানিংয়ের মুখে পাথর বোঝাই এমভি জিয়া এন্ড সাব্বির নামের বার্জ আটকে যাবার কারণে ওই চ্যানেলে ফেরিগুলো প্রবেশ করতে না পারায় আমরা বিকল্প চ্যানেল হিসেবে পদ্মা সেতুর চ্যানেলটি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছি ফেরি সার্ভিস কর্তৃপক্ষকে। ফেরি চ্যানেলে ড্রেজিং অব্যাহত আছে। ডুবো চরে আটকে থাকা পাথর বোঝাই বার্জটি অন্য দুটি বাল্ক হেডে কিছু পরিমান পাথর সরিয়ে নিলে হালকা হওয়ার পর বার্জটি সরানো হয়।
পাশাপাশি আগামী ১৫ তারিখ পর্যন্ত পদ্মা সেতুর ওই ফ্রি চ্যানেলটি ব্যবহারের জন্য আমরা সেতু মন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি। কারণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরি রুটে সমস্যা হওয়ায় শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে যানবাহনের চাপ বেশী। এ রকম দুর্যোগ পূর্ণ অবস্থায় পদ্মা সেতু বা ফ্রি ওই চ্যানেলটি ব্যবহার করা একান্ত প্রয়োজন। এ নিয়ে নৌ পরিবহন মন্ত্রী ও সেতু মন্ত্রীর সাথে কথা বলছেন। খুব শিগগিরই সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।
