গত ৫ আগস্ট পর্দা উঠে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়াযজ্ঞ অলিম্পিকের। আগামী ২১ আগস্ট পর্দা নামলেও বাংলাদেশের অলিম্পিক মিশন শেষ হচ্ছে শনিবারই। কারণ এদিনই বাংলাদেশের শেষ প্রতিযোগী অংশ নেবেন রিও অলিম্পিকে।
রিও ডি জেনিরোতে গেমসের অ্যাথলেটিসে ১০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নেবেন বাংলাদেশের স্প্রিন্টার মেসবাহ আহমেদ। এর আগে শ্যামলী ও বাকী হতাশ করলেও নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন সাতারু মাহফিজুর। আর শুরুটা ভালো করেও হতাশ করেছেন গলফার সিদ্দিকুর।
১৯৮২ সাল থেকে অলিম্পিকে অংশ নিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। তবে এখনো পদকশূন্য বাংলাদেশ। এবারও পদক জয়ের সম্ভাবনা খুব একটা নেই বললেই চলে।

অলিম্পিক গেমসে ২০৬টি দেশ অংশগ্রহণ করলেও এর মাঝে ৮২ টি দেশ আছে যার এখনো একাধিকবার অলিম্পিকে অংশ নিয়ে কোনও পদক জিততে পারেনি। বাংলাদেশও রয়েছে এই তালিকায়। বাংলাদেশের জন্য রয়েছে আরেকটু অনভিপ্রেত রেকর্ড। তার তা হলো কোনও পদক না জেতা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ হচ্ছে সবচেয়ে জনবহুল দেশ। এবারও যথারীতি পদক শূন্যই থাকতে হচ্ছে। বাংলাদেশের মোট ৭ প্রতিযোগী অংশ নিচ্ছেন এবারের গেমসে।
শনিবার অলিম্পিক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাছাই পর্বে অংশ নেবেন দেশসেরা স্প্রিন্টার মেসবাহ। আর এই ইভেন্টে আজ দেখা যাবে বিমে্বের দ্রুততম মানব উসাইন বোল্ট।১০০ মিটার স্প্রিন্টে অংশ নেবেন আরও বিশ্বসেরারা।
স্প্রিন্টার মেজবাহ আহমেদের এই ইভেন্টে অংশ নেবেন মোট ৭১ প্রতিযোগী। মেজবাহর সেরা টাইমিং ১০:৪৩। তবে সেটা হাতে স্টপওয়াচে ধরা, ইলেকট্রনিক টাইমিংয়ে আরও আধা থেকে এক সেকেন্ড তা বেড়ে যেতে পারে। অলিম্পিক হিটের এন্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড পুরুষদের ক্ষেত্রে ১০:১৬ ও মহিলাদের ক্ষেত্রে ১১:৩২ সেকেন্ড। বলাই বাহুল্য এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছেন বাংলাদশের দ্রুততম মানব।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত মেসবাহর এবারই প্রথম অলিম্পিক। ‘আই কেন ডু ইউ’-ফিলোসফিতে বিশ্বাসী ২১ বছরের এই তরুণের ফেভারিট অ্যাথলেট হলেন দৌড়ের রাজা বোল্ট। যিনি ১০০ মিটারে তার প্রতিপক্ষও।
অবশ্য বোল্ট খেলবেন সরাসরি সেমিফাইনালে। তাই মেসবাহের সাথে তার দেখা নাও হতে পারে, যদি মেসবাহ হিটেই বাদ পড়েন।

শ্যুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী নামেন শ্যুটিং রেঞ্জে। তিনিও শুরুটা ভালো করেছিলেন। কিন্তু ৮ আগস্টই বিদায় নেন ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ থেকে। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে অংশ নিয়ে ৬২১.২ পয়েন্ট তুলে ৫০ প্রতিযোগীর মধ্যে হন ২৫তম। কমনওয়েলত গেমসে রৌপ্য জয়ী বাকীকে নিয়ে দেশবাসী আশাবাদী হলেও নিজের সেরাটাও (৬২৭) করে দেখাতে পারেননি তিনি।

অবশ্য নিজের সেরাটা দিয়েও অলিম্পিক থেকে ছিটকে পড়েন বাংলাদেশের সাঁতারু মাহফুজুর রহমান সাগর। বাঘা বাঘা সাঁতারুদর ভিড়ে ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে হিটে ভালোই সাঁতরেছেন তিনি। ২৩ দশমিক ৯২ সেকেন্ডে সাঁতার শেষ করে নিজের সেরা টাইমিং ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যটা ঠিকই পূরণ করেছেন সাগর। সর্বশেষ এসএ গেমসে সাতটি ব্রোঞ্জ জেতা সাগরের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে জাতীয় পর্যায়ে ২৪ দশমিক ০২ সেকেন্ড ছিল আগের সেরা। অলিম্পিক অ্যাকুয়াটিক সেন্টারে ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলের ৫ নম্বর হিটে নামেন সাগর। আট জনের মধ্যে পঞ্চম হন ২৩ বছর বয়সী এই সাঁতারু। সব মিলিয়ে হিটে অংশ নেয়া ৮৫ জনের মধ্যে ৫৪তম হয়েছেন সাগর। হিট থেকে সেমিফাইনালে উঠেছেন ১৬ জন। এদের মধ্যে শেষ জনের টাইমিং ২২.১০ সেকেন্ড। ২৪.৪৩ সেকেন্ড কোয়ালিফাইং টাইম নিয়ে রিওতে ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে অংশ নেয়ার জন্য ওয়াইল্ড কার্ড পান সাগর। ওয়াইল্ড কার্ড পেয়ে অলিম্পিকে মেয়েদের ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইলে অংশ নেন বাংলাদেশের আরেক সাঁতারু সোনিয়া আক্তার টুম্পা।

হতাশ করেছেন দেশসেরা গলফার মো. সিদ্দিকুর রহমানও। ভালো শুরু করলেও পরে পিছিয়ে যান তিনি। দ্বিতীয় দিনে অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছেন কিছুটা।
রিও অলিম্পিকে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয় আর্চার শ্যামলীর মাধ্যমে। ৬৪ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ৫৩তম হন তিনি।

তবে অলিম্পিকের মূল বার্তাই হলো বিশ্বে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব ছড়িয়ে দেয়া। শান্তি ছড়িয়ে দেয়ার এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশের অংশগ্রহণই অ্যাথলেটদের জন্য বড় পাওয়া।
দৈনিক ইত্তেফাক/এমএইচ
