বিপুল টাকা আটকা পড়ে আছে বিদেশে

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৬, ১০:০৩
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আইন আছে। কিন্তু আইন অনুসারে একটি মধ্যস্থতাকারী (আরবিট্রেশন কমিটি) কমিটি গঠন হয়নি দীর্ঘদিনে। ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের কোটি কোটি টাকা আটকা পড়ে আছে বিদেশের মাটিতে। এই টাকা না আসায় বিপুলসংখ্যক শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। 
 
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (সিএমসিসিআই) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কমিটির অভাবে কোটি কোটি টাকা দেশে আনতে না পারার অভিযোগ গত ৭/৮ বছর ধরে নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এব্যাপারে কমিটি গঠনের আইন সংশোধন এবং দ্রুত কমিটি গঠন করার জন্য বারংবার এনবিআর বরাবর প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও ফলাফল মেলেনি। ফলে সংকট আরো ঘনীভূত হয়েছে।
 
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান চেম্বারের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুব চৌধুরী ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, এই কমিটি গঠন করা এনবিআর-এর জন্য ১০ মিনিটের কাজ। অথচ বার বার অনুরোধ, প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও কেন এনবিআর কর্তৃপক্ষ এই কমিটি গঠন করতে পারছে না তা বোধগম্য নয়। হয়তো বিষয়টি বুঝতে তাদের কষ্ট হচ্ছে। যথাযথভাবে কমিটি গঠিত হয়ে কাজ শুরু করলে এই মুহূর্তে বিদেশে আটকাপড়া রপ্তানিকারকদের প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা দেশে ফিরে আসবে বলে মাহবুব চৌধুরী জানান। তার মতে টাকার অভাবে দেশের যে সমস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে টাকা আসলে সেগুলোর মধ্যে কয়েকশ শিল্প প্রতিষ্ঠান সচল হয়ে পুনরায় রপ্তানিতে ফিরে আসতে পারবে। এই কমিটি গঠন করার আইন এনবিআরই করেছে, কিন্তু এনবিআর নিজেই নিজের শর্ত পালন করছে না।
 
রপ্তানি পণ্য ডেলিভারির একটি প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে রপ্তানিকারকদের বিপুল পরিমাণ টাকা দেশের বাইরে আটকা পড়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সত্যায়িত করা দলিলপত্রাদি ছাড়া শিপিং লাইন ও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা রপ্তানি পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার কারণে রপ্তানিকারকদের টাকা বিদেশে আটকা পড়ার মতো জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। গত ৭/৮ বছর ধরে রপ্তানিকারকদের বিপুল অঙ্কের টাকা আটকা পড়ার অসংখ্য অভিযোগ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এনবিআর বিষয়টির সুরাহা করার জন্য দুই সদস্যের কমিটি গঠনে এস.আর.ও জারি করে। কমিটিতে বন্দর ও ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশন থেকে একজন করে যথাক্রমে ২ সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়।
 
গত বছর ৯ এপ্রিল চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এনবিআর চেয়ারম্যানের সাথে চট্টগ্রামের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান চেম্বারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, আরবিট্রেশন কমিটি অনতিবিলম্বে গঠন করা উচিত এবং উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে এই কমিটিতে মাত্র দু’টি প্রতিষ্ঠানের দু’জন প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তি যথেষ্ট নয়। সিএমসিসিআই-এর পক্ষ থেকে ঐ সভায় এনবিআর প্রস্তাবিত দুই প্রতিষ্ঠানের ২ জন প্রতিনিধির সাথে আরো ৪টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে: লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ হিসাবে কাস্টমস, রপ্তানিকারকদের পক্ষে বিজিএমইএ, ব্যবসায়ীদের পক্ষে সিএমসিসিআই এবং আর্থিক সংস্থার পক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক।
 
বাংলাদেশ ফ্রেইড ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) পরিচালক অমিয় শংকর বর্মণ ‘ইত্তেফাক’কে বলেন, সংকট নিরসনে এখনো পর্যন্ত কমিটি গঠিত হয়নি। সিএমসিসিআই-এর প্রস্তাবনা অনুসারে কমিটি গঠিত হলে বাফা’র আপত্তি থাকবে না। নতুন বাজেটে এই ধরনের কমিটি গঠনের কোনো প্রস্তাবও এবার পাস হয়নি।