খালের পানিতে ডুবে যাওয়ার সময় দুই যুবক আর্তচিত্কার দেন। খালের কোমর সমান পানিতে তাদেরই কয়েকজন বন্ধু গোসল করার সময় সেদৃশ্য দেখলেও কেউ এগিয়ে যাননি। এ সময় খালের পাড়ে এক ব্যক্তি একটি পিকআপ গাড়ি পানি দিয়ে পরিষ্কার করছিলেন। যুবকদের চিত্কার শুনে তিনি পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ওই দুই যুবককে তিনি উদ্ধার করে খাল পাড়ে আনেন। এরপর তাদের ফুটবলটি উদ্ধার করতে যান। ফুটবল উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। প্রায় চার ঘন্টা পর ফায়ার সার্ভিস তার লাশ উদ্ধার করে। তার নাম সারোয়ার হোসেন (২৮)।
সোমবার দুপুরে বাড্ডার পাঁচখোলা খালের ৩ নম্বর বেরাইদ ব্রিজের কাছে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
বাড্ডা থানার ওসি আব্দুল জলিল বলেন, শোকদিবসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বেসরকারি কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেরাইদে বেড়াতে আসেন। দুপুরে খালের কোমর পানিতে তারা ফুটবল খেলছিলেন। এক পর্যায়ে তাদের বলটি খালের গভীর পানির অংশে পড়ে যায়। ঐ বলটি সাব্বির হোসেন (১৯) ও সাজ্জাদ হোসেন শুভ (২০) নামে দুই শিক্ষার্থী আনতে যায়। এ সময় তারা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে চিত্কার দেন। তখন কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা চিত্কার করতে থাকেন। এ সময় সারোয়ার তার পিকআপ গাড়িটি খাল পাড়ে পানি দিয়ে পরিষ্কার করছিলেন। তিনি এ দৃশ্য দেখে তাত্ক্ষণিক পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঐ দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে পাড়ে আনেন।
ওসি আরো জানান, সারোয়ার শুধু ঐ দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেই ক্ষান্ত হননি। তিনি তাদের ফুটবলটি উদ্ধার করতে আবারো পানিতে ঝাঁপ দেন। কিন্তু এ দফায় তিনি ফুটবলের কাছাকাছি যাওয়ার পর পানিতে তলিয়ে যান।
বাড্ডার থানার এসআই মেহেদী হাসান জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের বারিধারা শাখা থেকে ৩ সদস্যের একটি ডুবুরি ইউনিট গিয়ে পানিতে তল্লাশি চালায়। বিকাল পাঁচ টার দিকে ডুবরিরা সারোয়ারের লাশ উদ্ধার করে। পরে বিনা ময়নাতদন্তে তার বড় ভাই মোখলেসের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
সারোয়ার হোসেনের এই সাহসিকতাপূর্ণ কাজে বর্ণনা দিয়ে ঐ পিকআপ গাড়ির মালিক শাহ আলম জানান, সারোয়ারকে তিনিই মানুষ করেছিলেন। এক সময়ে সারোয়ার বাড্ডা নতুন বাজার থেকে গুলশান-১ নম্বর পর্যন্ত লেগুনা চালাতো। গুলশানে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর ঐ রুটে লেগুনা চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে তিনি চাকরি হারান। পরে শাহআলম তাকে তার পিকআপ গাড়ি চালানোর দায়িত্ব দেন।
পিকআপ গাড়িটি নিয়ে একটি কাজে বের হয়েছিলেন। দুপুরের দিকে ১শ’ ফিট রোডের ৩ নম্বর ব্রিজের কাছে সারোয়ার জানায়, যে পিকআপ গাড়িটি খালের পানিতে পরিষ্কার করলে ভাল হতো। পিকআপে তিনি ও তার ছেলে সাজ্জাদ আলম ছিলেন। পিকআপটি পরিষ্কার করার সময় খালের পানি থেকে কয়েকজন যুবক চিত্কার করলে সারোয়ার ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাদেরকে উদ্ধার করার পর ফুটবলটি উদ্ধার করতে গিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।ইত্তেফাক/এএম।
