স্বচ্ছল আওয়ামী লীগ, অভাবে বিএনপি

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৬, ১৮:৩৪
 
আর্থিক সংকটে পড়েছে বিএনপি। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল অবস্থানে রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ২০১৫ সালের আয়-ব্যয়ে আওয়ামী লীগের তহবিলে উদ্বৃত্ত আছে ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। বিএনপির তহবিলে কোনো উদ্বৃত্ত নেই। উল্টো দলটির আয়ের চেয়ে ১৪ লাখ টাকা বেশি ব্যয় হয়েছে। অর্থাত্, বিএনপির তহবিলে ঘাটতি ১৪ লাখ টাকার।
 
মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ২০১৫ সালের পঞ্জিকাবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দিয়েছে। জমা দেয়া হিসাব বিবরণী থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
 
আওয়ামী লীগের দেয়া হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে ক্ষমতাসীন দলটি আয় করেছে ৭ কোটি ১১ লাখ ৬১ হাজার ৩৭৫ টাকা। এ সময় দলটির ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৭২ লাখ ৮১ হাজার ৪৬৯ টাকা। অর্থাত্, ব্যয়ের পর তহবিলে উদ্বৃত্ত আছে প্রায় ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ২০১৫ সালে বিএনপির আয় হয়েছে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৩ হাজার ৩৬৫ টাকা। এ সময় বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ২৯ হাজার ৬৪৯ টাকা।
২০১৪ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ব্যয়ের চেয়ে আয় প্রায় আড়াইগুণ বেশি ছিল। ২০১৪ পঞ্জিকা বছরে দলটি আয় করে ৯ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৬৪৩ টাকা। পক্ষান্তরে ব্যয় হয় ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৪০ হাজার ৮২১ টাকা। ২০১৩ সালে তাদের মোট আয় ছিল ১২ কোটি ৪০ লাখ এবং ব্যয় ছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ। অন্যদিকে বিএনপি ২০১৪ সালে বিভিন্ন খাতে দুই কোটি ৮৭ লাখ ৪৮ হাজার ৫৭৪ টাকা আয় দেখিয়েছে। আর ব্যয় দেখিয়েছে তিন কোটি ৫৩ লাখ তিন হাজার টাকা। এতে আয়ের চেয়ে ৬৫ লাখ ৫৪ হাজার ৪২৬ টাকা বেশি ব্যয় হয়।
 
নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলামের কাছে দলের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান ও দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ এই হিসাব জমা দেন। পরে দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ সাংবাদিকদের বলেন, এবার আয়ের চেয়ে ব্যয় কম হয়েছে। দলের সদস্য সংগ্রহ, মাসিক চাঁদা, উপনির্বাচন, অনুদান, মনোনয়নপত্র, বিক্রি, প্রকাশনা খাতে আয় হয়েছে। কর্মচারীর বেতন, অনুষ্ঠান, সভা, প্রকাশনা, ত্রাণসহ নানা খাতে ব্যয় হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বছরের শুরুতে তহবিলে ছিল ২০ কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ১১৭ টাকা। বছর শেষে তা ২৩ কোটি ৮৭ লাখ ১৯ হাজার ২৩ টাকা দাঁড়িয়েছে। গোলাপ বলেন, দলের এ আয়-ব্যয়ের হিসাব অনলাইনে প্রকাশ করা হবে।
 
বিএনপির ২০১৫ সালে ১৪ লাখ ২৬ হাজার ২৮৪ টাকা ঘাটতি রয়েছে বলে জানান দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ কে এম আমিনুল হক। কমিশন সচিবের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়ার পর তিনি বলেন, ‘আমাদের এবার ঘাটতি সোয়া ১৪ লাখ টাকার মতো, যা আগের হিসাবের সঙ্গে সমন্বয় করে নেয়া হবে। দলের বছরের শুরুতে তহবিলে ছিল ২ কোটি ৮৪ লাখ ৮৮ হাজার ৭৪৫ টাকা। সমাপনী ব্যালেন্স ২ কোটি ৭০ লাখ ৬২ হাজার ৪৬১ টাকা।

ইত্তেফাক/এএম।