রাবির ছাত্রী হলে অতিথি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৬, ১৯:৫১

সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্রী হলে অতিথি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা জারির পরে কিছু শিক্ষার্থীর অভিভাবককে হলে এসে বিপাকে পড়তে দেখা গেছে। এদিকে নিরাপত্তার নামে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে অমানবিক বলে দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনগুলো।

 
জানা যায়, সম্প্রতি রাবির ছাত্রী হলে অতিথি অবস্থান করতে পারবে না এমন একটা আইন জারি করা হয়েছে। মন্নুজান হলের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে এখন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত, হল প্রশাসনের বিনা অনুমতিতে হলে কোন প্রকার গেষ্ট অবস্থান করতে পারবে না। কাজেই হলে রাখার উদ্দেশ্য কোন প্রকার গেষ্ট নিয়ে আসা যাবে না।’ এ নিষেধাজ্ঞা জারির পর আবাসিক ছাত্রীদের আত্বীয়-স্বজনকে দেখা করতে এসে বিপাকে পড়তে দেখা গেছে।
 
তাপসী রাবেয়া হলের শিক্ষার্থী রুবাইয়াৎ জাহান ইমোনা জানান, ‘সোমবার দুপুরে ঢাকা থেকে আমার মা দেখা করতে আসেন। হলের ভিতরে প্রবেশ করতে চাইলে অনেক অনুরোধ করায় শর্ত-সাপেক্ষে দুই ঘন্টা হলে প্রবেশের অনুমতি দেয়।’অভিমান করে এই মেয়েটি বলেন, ‘দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে ঢাকা থেকে এসে দুই ঘন্টায় মেয়ের খোঁজ নেওয়া সম্ভব? প্রশাসনের এই ধরনের অমানবিক সিদ্ধান্তের কারণে মা ঢাকায় ফিরে যেতে বাধ্য হন।’
 
ইমোনা ছাড়াও একাধিক মেয়ের ক্ষেত্রে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়। যার ফলে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের দেখা দিয়েছে।
 
জানতে চাইলে তাপসী রাবেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শিউলী শামিম শান্তা বলেন, ‘ছাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অতিথি প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মেয়েটার মাকে না থাকতে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আজকে একজনকে থাকতে দিলে, আগামীকাল আরো দশজন এসে থাকতে চাইবে। যা বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভব নয়।’
 
এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তমশ্রী দাস বলেন, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের হলে প্রবেশে এমন নির্দেশনা একেবারেই অযৌক্তিক। প্রতি শিক্ষার্থী নিজেরাই সচেতন। কাজেই নিরাপত্তার নামে এ ধরনের আইন করে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করা কোনমতেই কাম্য নয়। এ সময় তিনি কোনরকম শর্ত ছাড়া আত্বীয়-স্বজনদের হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান।
 
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জু বলেন, ‘মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন সন্তান-সন্ততিদের খোঁজ খবর রাখতে বলছেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী হলে অভিভাবকদের প্রবেশের অনুমতি না থাকার সিদ্ধান্ত কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
 
বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রাধ্যক্ষ কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও মাদার বখ্স হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই সবকিছু করে থাকি। বর্তমানে সারাদেশে জঙ্গিবাদের কারণেই মেয়েদের হলে আইন জারি করা হয়েছে। এছাড়া ছেলেদের আবাসিক হলের অবৈধ অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।’
 
ইত্তেফাক/এএন