‘তৈরি করা দর্শক মুখ ফিরিয়ে নিলে ফেরত আনা কঠিন’

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৬, ১০:৫০
 
‘ঢাকার অর্ধেক লোকও যদি হলে গিয়ে মুভি দেখতো তাহলে হলগুলো মুখ ফিরিয়ে নিতো না। আমাদের অজুহাত আমাদের কাজ,মান ভালো না। বিষয়টা আমার কাছে মনে হয় তারা কাজ না দেখে, শুনে শুনে মন্তব্য করে।’
 
ফজলুর রহমান বাবু। এদেশের শোবিজের এক অনন্য অনুকরণীয় চরিত্র। সর্বশেষ তৌকির আহমেদ পরিচালিত ‘অজ্ঞাতনামা’ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় দেখে কেঁদেছেন অনেকেই। নিজের সাম্প্রতিক ভাবনা শেয়ার করলেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে।
 
এখনকার ব্যস্ততা কেমন?
ঈদ উপলক্ষে এরইমধ্যে বেশকিছু নাটকের কাজ করা হয়ে গেছে। শিডিউল ওভারলেপিং এবং ঈদের পরে দেশের বাইরে থাকায় এবারের কাজ তুলনামূলকভাবে অন্যান্যবারের চেয়ে কম।
 
সম্প্রতি মুক্তি পেল আপনার অভিনীত চলচ্চিত্র ‘অজ্ঞাতনামা’। নতুন কোনো চলচ্চিত্রে কাজ করছেন কি?
বর্তমানে ‘ঢাকা ড্রিম’ নামে ছবিতে কাজ করছি। এছাড়া গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল, মিজানুর রহমান লাবুর ‘নুরু মিয়া এবং তার বিউটি ড্রাইভার’। ভালো লাগার বিষয় হলো যে প্রতিটি ছবিই একটি থেকে অন্যটির গল্প ও আবহ একদমই আলাদা। আমার চরিত্রগুলোও ভিন্ন। তারমধ্যে ‘অজ্ঞাতনামা’র কাহিনি গড়ে উঠেছে প্রবাসে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং মানবপাচারকে ঘিরে। মন ও মানবিকতাকে নাড়া দিয়ে যাওয়ার মতো একটি গল্প। আবার ‘স্বপ্নজাল’ সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের। আগামী মাসে শুরু করতে যাচ্ছি  ‘হালদা’ চলচ্চিত্রে।
 
নিজের স্বাচ্ছন্দ্যবোধের কাজ এবং চরিত্র সম্পর্কে কি বলবেন?
অভিনয়টাই আমার কাছে মুখ্য। সেটি নাটক হোক কিংবা চলচ্চিত্র। সবসময় চেষ্টা করি যে চরিত্রের জন্য পরিচালক আমার উপর আস্থা রেখেছেন সেটি যেন ঠিকমতো ফুটিয়ে তুলতে পারি। আমার কাছে চরিত্রের ছোট বড় বা মূল চরিত্র বলে কিছু প্রাধান্য পায় না। গল্প ও চরিত্র পছন্দ হলে সেটি আমি করি এবং অনেক ছোট চরিত্র দিয়েও আমি দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছি। আমি মনে করি অভিনেতা হিসেবে এটিই আমার স্বার্থকতা। তবে চরিত্রগুলো বড় হলে দায়িত্বটা বেড়ে যায়। দিনশেষে যদি ছবিগুলো এবং চরিত্রগুলো দর্শকদের কাছে সমাদৃত হয় সেটিই হবে আমার সাফল্য।
 
নাটক কিংবা ধারাবাহিকের মান, কাজ এবং দর্শক প্রসঙ্গে আপনি কি বলবেন?
আমি সারাদিন শুটিং নিয়েই ব্যস্ত থাকি। সেজন্য নাটক দেখার সময় খুব বেশি পাইনা। অস্বীকার করবো না নাটক নিয়ে অনেক সমস্যা রয়েছে আমাদের। নানা কারণে দর্শকরা নাটক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অথচ আমাদের একটা তৈরি দর্শক ছিল। বিটিভি সেই দর্শক তৈরি করেছিলো। আবার সেটাকে আমরাই গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছি। মানহীন গল্প, নির্মাণের দুর্বলতা, অভিনয়ের অ আ ক খ না জেনেও তারকা বনে যাওয়া শিল্পীদের অভিনয়, বিজ্ঞাপনের আধিক্য ইত্যাদি সমস্যা সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে। সেজন্যই তারা এখন বিদেশি চ্যানেল দেখছেন। তাদের আবার ফিরিয়ে আনা এত সহজ বলে আমি মনে করি না। আর নাটকে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারি আসলে বাজেট একটা ভাল কাজ নির্মাণের অন্তরায়। কারণ পাঁচ বছর আগে একটা নাটকের বাজেট যা ছিল এখনো তাই আছে। অথচ সবকিছুর দাম বেড়েছে আগের তুলনায়। কিন্তু নাটকের বাজেট বাড়েনি। সেজন্য নির্মাতাদের বাধ্য হয়ে অনেক সময় শর্ট-কাটে অনেক কিছু করতে হয়। সুতরাং নাটক টিকিয়ে রাখতে হলে এর বাজেটের দিকেও নজর দিতে হবে। ভালো বাজেটে ভালো গল্প নিয়ে কাজ করলে দর্শক আবারো ঘরে ফিরে আসবে।
 
অনেকদিন যাবত গায়ক ফজলুর রহমান বাবু নিশ্চুপ। কেন?
সত্যি কথা বলতে আমি যে গানগুলো গেয়েছি সেগুলো শখের বশে,মানুষের আবদারে। গান নিয়ে আমার কোনো চিন্তাই ছিল না আর পরিকল্পনাও নেই আগামীতে। আমার মূল পরিচয় একজন অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী নয়। আমি সবসময় অভিনেতা হয়ে থাকতে চেয়েছি। আর এবারের ঈদে সিএমভি থেকে একটি অ্যালবাম থাকছে নাম ‘হীরামন পাখি’।
 
রোমান্টিক, অ্যাকশন গতানুগতিক ধারার চলচ্চিত্রের বাইরে গিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো বেশিদিন হলে টিকে থাকতে পারে নি। আপনার কি অভিমত?
আমার প্রশ্ন হলো আমরা কয়জন হলে গিয়ে এখন মুভি দেখি? আমরা কোনভাবে দুই একটা টিকিট ম্যানেজ করলে, কেউ গিফট অফার করলে তারপর হলে গিয়ে মুভি দেখি। ঢাকার অর্ধেক লোকও যদি হলে গিয়ে মুভি দেখতো তাহলে হলগুলো মুখ ফিরিয়ে নিতো না। আমাদের অজুহাত আমাদের কাজ,মান ভালো না। বিষয়টা আমার কাছে মনে হয় তারা কাজ না দেখে, শুনে শুনে মন্তব্য করে। দর্শক যদি হলে গিয়ে চলচ্চিত্র দেখে তাহলে চলচ্চিত্রগুলো দর্শকদের টানে হলেও ভালো কাজ উপহার দিবে।
 
সাক্ষাৎকার- দেবব্রত ভৌমিক, ছবি- মাহবুব আলম