নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে একটি সর্বাত্মক আন্দোলনের প্রাক-প্রস্তুতি চলছে বিএনপিতে। সর্বস্তরে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সমাপ্ত করার পর আন্দোলনের পথে হাঁটতে চায় দলটি। বিগত আন্দোলনের ব্যর্থতার পটভূমিকে সামনে রেখে নতুন কৌশলে আন্দোলন গড়ার একটি পথনকশা প্রণয়ন করা হচ্ছে। এতে যে আন্দোলন হবে তা যেন হয় অব্যর্থ-তীব্র-সর্বব্যাপী। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় গভীর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন এসব কথা।
বিএনপির সদ্য ঘোষিত তারুণ্য নির্ভর পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়েও ‘নির্ভার’ হওয়ার কথা জানালেন দলের ৩৪ বছরের কান্ডারী বেগম খালেদা জিয়া। বললেন, বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়েছে। আমরা একটি সুন্দর কমিটি গড়ার চেষ্টা করেছি। যেখানে স্থান পেয়েছেন ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং রাজপথের সংগ্রামীরা। কমিটিতে সমন্বয় ঘটেছে নবীন আর প্রবীণের। তারুণ্যের উদ্দীপনা-উদ্যোম আর প্রবীণের জ্ঞান-অভিজ্ঞতার আলোকে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। বিএনপির কমিটি নিয়ে মিডিয়াতে যে সমালোচনা চলছে তা নাকচ করে দিয়ে বেগম জিয়া বলেন, আমি কমিটি করেছি। প্রকৃত যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। যারা ঠাঁই পায়নি তারা বঞ্চিত হবে না। তাদেরকে কাজ করে যেতে হবে। অবশ্যই তাদের মূল্যায়ন করা হবে। বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় দল। এই দলে সবাইকে একবারে কেন্দ্রীয় কমিটিতে আনা সম্ভব নয়। পর্যায়ক্রমে আসবে। আমাদের যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলাদল আরো দল আছে। সেখানেও নতুন কমিটি হবে। সেখানেও অনেকে স্থান পাবেন। হতাশ হলে চলবে না।
বেগম খালেদা জিয়া দল নিয়ে তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, সারাদেশে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে কমিটি হবে। থানা উপজেলা পৌরসভা কমিটি হবে। জেলা কমিটি হবে। আমরা কাজ শুরু করেছি। স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি খুব শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। তারপর যুবদলের কমিটি হবে। মহিলা দলের কমিটি হবে। এইসব কমিটি শেষ করার পর আন্দোলনের মাঠে নামবে নেতা-কর্মীরা। জনগণের দাবিকে ভিত্তি করে হবে আন্দোলন।
বিএনপির নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়াদের কঠোর বার্তা দিলেন বেগম জিয়া । বললেন, কমিটি করেছি। এখন যারা নেতা হয়েছে তাদের বসে থাকলে চলবে না। আমরা তাদের কাজের মূল্যায়ন করবো। শিগগিরই আমি নতুন কমিটির সঙ্গে বসবো। তাদেরকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে দায়িত্ব দেব। আমার কাছে নিয়মিত তাদের কাজের অগ্রগতি নিয়ে রিপোর্ট করতে হবে। তারা কি কাজ করছে আমাদেরকে জানাতে হবে। বসে বসে ’নেতাগীরি’ চলবে না। কাজ না দেখাতে পারলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে বেগম জিয়া বলেন, ৮৬-তে, ৯০-তে, ৯৬-তে এই জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে থেকে, পাশে থেকে আন্দোলন করেছে। এটা জামায়াত কেন বলছে না ? তারা তো বলতে পারে। তারা নীরব কেন? আমাদের জোট আন্দোলন-নির্বাচনের। তার বাইরে কিছু নেই।
সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি জাতীয় নেত্রী হিসেবে দেশের এই ক্রান্তিকালে এই ডাক দিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে আজ জাতীয় ঐক্য জরুরি। এই আহ্বানে সকলকে সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।
ইত্তেফাক/এএন
