‘আমরা শিল্পকলাতেই আটকে আছি'

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৬, ১০:৫৮
এখন সবাই টিভি নাটকের দিকে ঝুঁকছেন। সেই জায়গা থেকে টিভি নাটকের পাশাপাশি মঞ্চনাটকেও আপনি নিয়মিত। এই প্রসঙ্গে একটু বলবেন?
 
টিভি নাটকের দিকে ঝুঁকছেন বিষয়টি এমন নয়। সবাই সবার ভালোলাগা থেকে কাজ করে। আমার কথাই বলি-আমি ছোটবেলা থেকে শিল্পকে ভালোবাসি। সেই ভালোবাসার জায়গা থেকে মনে হয়েছে আমি সবসময় আমার দেশের শিল্প এবং সংস্কৃতির সাথে থাকবো। আমি শিল্পকে ভালোবাসি বলে শিল্পের সব মাধ্যমের সঙ্গে জড়িত আছি, সামনেও থাকবো। আমাকে টেলিভিশনে কম দেখা যায় তার মানে এই নয় যে, আমি কাজ কম করছি। আমি এখন টেলিভিশনে কাজ করছি পরিচালকের ভূমিকায়। আমার নিজের প্রোডাকশন হাউজ টিকেট থেকেও বেশকিছু কাজ দেখা যাবে সামনে। আর ছোটবেলা থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম আমি থিয়েটারের সঙ্গে থাকবো। সেই ভাবনা আর ভালোবাসার টানে এখনো আছি। দুটো জায়গা আমার কাছে সমান প্রিয়, আলাদা কোনো জায়গা নয়।
 
মঞ্চনাটকের বর্তমান অবস্থা কেমন?
 
বর্তমান প্রেক্ষাপট হিসেব করলেও মঞ্চের দর্শক এবং কর্মীদের টুপিখোলা অভিনন্দন। কারণ হাজারো প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন একটি ইন্ড্রাস্টিকে। সব কাজেই সমস্যা থাকে, আগেও ছিল, সামনেও থাকবে। সেই জায়গা থেকে আমি বলবো আমাদের কর্মী বাড়ছে, দর্শক বাড়ছে, কিন্তু কোনো থিয়েটার মঞ্চ বাড়ছে না। শিল্পকলা একাডেমি ছাড়া থিয়েটারের জন্য আর মঞ্চ নেই। আমরা শিল্পকলাতেই আটকে আছি। বর্তমানে শহর বাড়ছে, সেই সুবাদে আমাদের মঞ্চও বাড়ানো দরকার।
 
মঞ্চ পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়ে অনেকদিন যাবত্ কথা হচ্ছে। কিন্তু আপনারা যারা যুক্ত আছেন তাদের ভূমিকা কি?
 
একটি বিষয় হয়তো সবার জানা নেই মঞ্চনাটক নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের অনেকেই নিজেদের টাকা খরচ করে কাজ করছেন। এজন্য তাদের সাধুবাদ, তারা শিল্পকে ভালোবেসে কাজ করে যাচ্ছেন। আমাদের থিয়েটার কিছুটা প্রচারবিমুখ। মঞ্চকে আমরা মার্কেটিংয়ের জায়গায় এখনো নিতে পারিনি। আমরা যারা যুক্ত আছি তাদেরকেই এগিয়ে যেতে হবে কর্পোরেট শ্রেণির কাছে। তাদের বোঝাতে হবে আমাদের দেশের খুব বড় একটা শিল্প মাধ্যম হিসেবে থিয়েটারও কোনো অংশে কম নয়, বরং অন্য জায়গাগুলোর চেয়ে বড় এবং খুব সহজ শক্তিশালী মাধ্যম। সেই লগ্নিকারী  মাধ্যমগুলো যদি এগিয়ে আসে তবে থিয়েটার আরো বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।
 
টিভি নাটকের বাজেটের স্বল্পতা সবারই জানা, কিন্তু শুধু বাজেটের কারণেই কি নাটকের গল্পের মান কমছে?
 
নাটকের শক্তির উত্স অর্থাত্ ভিত্তি থাকে বাজেট। সেই শক্তির জায়গা তথা ভিত্তি যদি নড়বড়ে হয় তাহলে পুরো কাজটাই খারাপ হবে এটা স্বাভাবিক। এছাড়া আমাদের রয়েছে লেখক সঙ্কট। এজন্য বাজেটের অভাবে কম টাকায় আপনি লেখককে দিয়ে চাইলেও ভালো গল্প পাবেন না। এছাড়া বেশকিছু অসঙ্গতি তো আমাদের আছেই। নাটক, থিয়েটার কিংবা চলচ্চিত্র এগুলো শিল্প। এগুলোকে ব্যবসা ভেবে আমরা ভুল করি। তাই এটাকে ব্যবসা না ভেবে কাজ করলে আমাদের ফলাফল এবং কাজ দুটোই আরো ভালো হবে।
 
আপনার এখনকার ব্যস্ততা কি নিয়ে?
 
পরিচালনা নিয়েই ব্যস্ত আছি। এনটিভিতে ‘শেষ বিকেলের গান’ নামে ৭২ পর্বের একটি ধারাবাহিকের কাজ শেষ করলাম। পাশাপাশি মঞ্চেও নির্দেশনা দিচ্ছি। ঈদের পর বেশকিছু কাজ শুরু করবো।  টেলিভিশন নাটক নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ড নির্বাচনে ডিরেক্টরস গিল্ডে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে আছি, যেটা বলতে গেলে গুরু দায়িত্ব। সেখান থেকে জামালপুর গিয়ে বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ করে এসেছি। সামনে শিল্পী মুস্তফা মনোয়ারের ৮১তম জন্মদিনের আয়োজন নিয়ে কাজ করছি সংগঠন থেকে।
 
 
সাক্ষাত্কার : দেবব্রত ভৌমিক