নেত্রকোনার মদন উপজেলার ১০ নং রত্নপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের নির্দেশে ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ করেছে। প্রধান শিক্ষক নন্দিতা ভট্টাচার্যকে বদলি না করায় তারা এ প্রতিবাদ জানায়।
শনিবার দুপুরে বিদ্যালয়ে সরজমিনে গেলে প্রধান শিক্ষকসহ ৬ জন শিক্ষককে উপস্থিত পাওয়া যায়। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে না আসার বিষয়টি শিক্ষকদের কাছে জানতে চাইলে তারা কোনো সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।
জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতা ও বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার ব্যাপারে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন এসএমসি কমিটি ও অভিভাবকগণ। সে প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ মোজাহিদুল ইসলাম ১৮ জুলাই ২০১৮ এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মির্জা শাকিলা দিল হাছিল ৮ নভেম্বর ২০১৮ ইং তারিখে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে প্রধান শিক্ষক নন্দিতা ভট্টাচার্যকে অনুপস্থিত ও অন্য কার্যক্রম অব্যবস্থাপনায় সুস্পষ্ট নিদর্শন পান। এমনকি একটি শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থীকে উপস্থিত পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
২০ নভেম্বর ও ২ ডিসেম্বর ২০১৮ ইং তারিখে তদন্তকারী দুই কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদন দাখিল করলেও কোনা ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যগণ ক্ষুদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানায়। প্রধান শিক্ষককে অন্যত্র বদলি না করা পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে উপস্থিত অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যগণ জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ আলী আকবর জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নন্দিতা ভট্টাচার্যের স্বেচ্ছাচারিতা ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের বরাবর দায়ের করা হয়েছিলো। তারপর জেলা প্রশাসকসহ উপজেলা শিক্ষা অফিস তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এর প্রতিবাদে শনিবার থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন শুরু করেছে। বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষে দ্রুত প্রধান শিক্ষককে অন্যত্র বদলির দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নন্দিতা ভট্রাচার্য বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে না আসার বিষয়টি আমার জানা নেই।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার সূত্রধর বলেন, ‘এ বিষয়টি আমার দপ্তরসহ জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন যথাযথভাবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট দাখিল করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি তা আমার জানা নেই। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিত না হওয়া দুঃখজনক।’
আরও পড়ুনঃ নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করলেন ঋণের ভারে জর্জরিত মুক্তিযোদ্ধা মন্টু
এ ব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওবায়দুল্লাহর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ইত্তেফাক/নূহু
