চলতি অর্থছরের (২০১৬-১৭) প্রথম মাস জুলাইয়ে রপ্তানি লক্ষ্য অর্জন হয়নি ৫১ বাণিজ্যিক মিশনে। বিদেশে বাণিজ্যিক মিশন কেন্দ্রীক তথ্যে দেখা গেছে, আলোচন্য সময়ে ৫৬টি মিশনে ২৫৩ কোটি ৪৩ লাখ ১০ হাজার কোটি ডলার রপ্তানি হয়েছে। যা গত বছরের জুলাই থেকে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ কম। ২০১৫ সালে জুলাইয়ে রপ্তানি হয়েছিল ২৬২ কোটি ৫৯ লাখ ৩০ হাজার ডলার। রপ্তানি মূলত কয়েকটি পণ্য এবং কয়েকটি দেশের মধ্যেই আটকে আছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশে বাংলাদেশের মোট ৫৬টি মিশন রয়েছে। এর মধ্যে ৫১টি মিশন লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। বেশ কয়েকটি দেশে ধারাবাহিকভাবে কমছে রপ্তানির পরিমাণ। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পেরেছে মাত্র ৫টি মিশন। এগুলো হলো জেনেভা, কোপেনহেগেন, কাঠমান্ডু, ব্যাংকক এবং এ্যথেন্স।
তবে গত অর্থবছর থেকে ভালো করেছে ২১টি মিশন। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এগুতে না পারলেও এই মিশনগুলোর আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে।
মিশনগুলো হলে- বার্লিন, নিউ দিল্লি, মাদ্রিদ, প্যারিস, মস্কো, মানামা, কুয়ালালামপুর, বেইজিং, ব্রুনাই, ব্রাসেল, বাগদাদ, আমান, ম্যানিলা, জাকার্তা, দোহা, ত্রিপলী, মালে, দি হেগ, ওয়ারসো, লিসবোন এবং তাসখন্দ। তবে কয়েকটি মিশন পিছিয়ে পড়ছে বলেও ইপিবির হালনাগাদ তথ্যে উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে ইপিবির কর্মকর্তারা জানান, বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে মিশন ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তবে সামগ্রিক বিবেচনায় দেশের রপ্তানির চিত্র আশাব্যঞ্জক বলা যায়। কিছু মিশন পিছিয়ে পড়লেও অনেকে মিশন ভালো করছে।
উল্লেখ্য, মিশনগুলোর কাজ হলো ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে দেয়া। বাকি কাজটা করতে হবে ব্যবসায়ীদের। এতে মিশনগুলোর তেমন ভূমিকা থাকে না। উদ্যোক্তারা বলছেন, গতানুগতিক দেশের মধ্য থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেনা আমাদের রপ্তানি খাত। নতুন নতুন দেশের দিকে ব্যবসায়িক পরিসর বাড়াতে হবে। মিশনগুলো এই কাজে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করতে পারে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরে (২০১৫-১৬) মিশনগুলোর রপ্তানি আয় হয়েছিল ৩ হাজার ৪২৪ কোটি ১৮ লাখ ২০ হাজার ডলার। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার। সে হিসেবে ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি রপ্তানি হয়েছে। যা এর আগের অর্থবছরের (২০১৪-১৫) থেকে ৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। চলতি (২০১৬-১৭) অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।
ইত্তেফাক/এমআই
