মীর কাসেম আলীর মামলা

অদক্ষ প্রসিকিউটরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথা জানতে চেয়েছে আদালত

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৬, ১৩:৫৫
 
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা পরিচালনায় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটরদের ব্যর্থতায় আবারো অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এই মামলা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত দুই প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তাও অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জানতে চেয়েছে আদালত।
 
জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, 'ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরদের অদক্ষতার কারণেই মীর কাসেম আলীর মতো একজন যুদ্ধাপরাধী ১২ নম্বর অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।'   
 
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, 'আমি আদালতে এই উদ্বেগের বিষয়টি আইনমন্ত্রীকে অবহিত করব।' 
 
আজ রবিবার মীর কাসেম রিভিউ পিটিশন শুনানিকালে আপিল বিভাগে এ অসন্তোষ প্রকাশ পায়। 
 
আসামি পক্ষের বক্তব্য শেষ হওয়ার পর শুনানি শুরু করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। শুরুতেই অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'এই মামলা পরিচালনায় যে দুইজনের প্রসিকিউটর ছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রায়ে বলেছিলাম। আইনমন্ত্রীও বলেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা আমাদের জানান।'
 
প্রধান বিচারপতি বলেন, 'আমরা আশা করেছিলাম, ট্রাইব্যুনালে যেসব প্রসিকিউটর অদক্ষ তাদেরকে সরিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু তা না করে দল ভারী করা হয়েছে।' 
 
এক পর্যায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, 'এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।'  
 
প্রধান বিচারপতি বলেন, 'যারা মামলাটি করেছেন, তাদের ফৌজদারি মামলা করার অভিজ্ঞতা কী রকম, সেটা কি খোঁজ নেয়া হয়েছে? এ ধরনের মামলায় যারা দক্ষ প্রসিকিউটর, তাদেরকে কেন অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি?' 
 
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, 'দক্ষ প্রসিকিউটর আছে। তাদেরকে কেন অন্তর্ভুক্ত করা হলো না? এতে আমি আশ্চর্য হচ্ছি।'
 
প্রধান বিচারপতি বলেন, 'প্রসিকিউটররা ট্রায়েলের নামে তামাশা করেছেন। তারা একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য ট্রাইব্যুনালে ভাগ করে পাঠ করেছেন। জাতিকে এ বিষয়টি জানা দরকার।' 
 
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, 'আমি আইনমন্ত্রীকে অবহিত করব।' 
 
 
ইত্তেফাক/কেক