জবি শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৬, ০১:১২
হলের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও সুমনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সাধারণ শিক্ষার্থীদের ডাকা তৃতীয় দফা ছাত্র ধর্মঘটের প্রথম দিনে এ ঘটনা ঘটে।
 
এদিকে জবি শিক্ষক সমিতি এক জরুরি সভায় শিক্ষার্থীদের নৈতিক আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষক সমিতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে আসারও আহ্বান জানিয়েছে। 
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী গতকাল সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ছাত্র ধর্মঘটের লক্ষ্যে সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে জড়ো হন। পরে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অনুষদে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবন ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করে। এসময় জবি ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামসহ নেতা-কর্মীরা শিক্ষার্থীদের মিছিলে বাধা দেন। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তারা মারধরও করেন। পরে শিক্ষার্থীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে বিভিন্ন অনুষদে চলে যান।
 
আধা ঘণ্টা পর ফের মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিতে চান। প্রধান ফটকের সামনে তাদের আবারো ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে জবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের উপস্থিতিতে পদ প্রত্যাশী বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিসোঁটা নিয়েও হামলা চালাতে দেখা যায়। এ সময় লেখাপড়া২৪ ডটকমের সাংবাদিক মাছুম বিল্লাহ আখন্দ সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তার মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয় ছাত্রলীগ।
 
গুরুতর আহত শিক্ষার্থী অনিমেষ রায়কে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।
 
পরে কলা অনুষদের গেট দিয়ে বের হয়ে বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকার সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এখানেও তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে আরও কয়েকজনকে মারধর করেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তবে এখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবস্থানে থাকায় ছাত্রলীগ পিছু হটে। এসব ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
 
দুপুর ১২টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয় অবকাশ ভবনের ক্যান্টিনে সার্বিক বিষয় নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করতে গেলে সেখানেও বাধা দেয় ছাত্রলীগ। এ কারণে সংবাদ সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। পরে বেলা তিনটায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে তারা জানান, ছাত্রলীগ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করেছে। আমরা আমাদের আন্দোলন থেকে পিছু হটব না। আজ সোমবার ক্যাম্পাসে ছাত্র ধর্মঘট বহাল থাকবে এবং তাঁতী বাজার মোড় অবরোধ করা হবে।
 
হামলার শিকার শিক্ষার্থী জবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আল আমিন জানান, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাকে গলা টিপে দমবন্ধ করে ফেলার পাশাপাশি বৃষ্টির মতো কিল-ঘুষি মেরে আহত করে। ছাত্রীদের উপরও হামলা করেছে তারা।
 
এদিকে সাংবাদিক আহতের প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি এক জরুরি সিদ্ধান্তে ছাত্রলীগের সকল ইতিবাচক সংবাদ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে।
 
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিবির এবং স্বাধীনতাবিরোধীরা আন্দোলনকে পুঁজি করে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করার পাঁয়তারা করছে। আমরা এটাকে প্রতিহত করছি। হল আন্দোলনের সাথে ছাত্রলীগ ছিল এবং আছে।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, সাংবাদিক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনাটি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
 

ইত্তেফাক/এএন