শাহজাদপুর উপজেলার পারকোলা গ্রামের মাঝখানে অবস্থিত কালের সাক্ষী চাকী জমিদার বাড়ীটি অযত্ন ও অবহেলায় ক্রমেই ধ্বংস ও বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া এর অধিকাংশ জায়গা-জমি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাত হয়ে যাচ্ছে। ঝোপ-জঙ্গলে ছেয়ে গেছে জমিদার বাড়িটির একতলার ভবন। ১৮১৫ সালের দিকে তত্কালীন জমিদার দ্বারকানাথ চাকী এ বাড়িটি নির্মাণ করেন। এ বাড়ির পূর্বদিকে শানবাঁধা বিশালকৃত্রির পুকুর আছে।
এ ছাড়া পূর্ব প্রান্তে লক্ষী নারায়ণ ও কালী মন্দিরের পাশে বিশাল আকৃতির আট চালা নাট মন্দির ছিল। এই নাট মন্দিরে প্রতি বছর লীলা কীর্তন, নাম কীর্তন, বেহুলা পালা, রামায়ণ, মহাভারত, গাজীর গান, জারিগান, রাধাকৃষ্ণের পালা পরিবেশন করা হতো। ১৯ বিঘা জমির ওপরে নির্মিত এ বাড়িটির চারধারে আম-কাঁঠালের বাগান ছিল। বাড়িটির সামনের অংশে বিশালাকৃতির একটি হল ঘর রয়েছে। এর ডান-বামে ছোট ছোট দুইটি কক্ষ রয়েছে।
এ ছাড়া বাড়ির চারপাশে থাকার বেশ কয়েকটি কক্ষ রয়েছে। এ সব কক্ষের দরজা-জানালার অলঙ্কারিক কাজ দর্শনার্থীদের সহজেই মন কাড়ে। এ ছাড়া ভবনটির কার্নিশের পেরাপেট অলঙ্কার এবং লতাপাতা খচিত অলঙ্করণ কাজ সবাইকে মুগ্ধ করে। ভবনটির দুইপাশে বিশাল আকৃতির দুইটি বারান্দা রয়েছে। বারান্দার থামগুলো সুদৃশ্য নকশায় নির্মিত। বর্তমানে মূল ভবন বাদে আর সমস্ত জায়গাই বেদখল হয়ে গেছে। দ্বারকানাথ চাকীর জমিদারিটি খুব একটা বড় ছিল না। পারকোলা, যুগ্মীদহ, নারানদহ, টেটিয়ারকান্দা, কাংলাকান্দা, বাচামারা ও বাতিয়া গ্রাম নিয়ে অবস্থিত ছিল। তার মৃত্যুর পর বাড়িটি উত্তরাধিকার সূত্রে তার দু্ই ছেলে তারকনাথ চাকী ও অর্ধেন্দুনাথ চাকীর হস্তগত হয়। এরপর ১৯৩৫ সালে তারকনাথ চাকীর মৃত্যুর পর বাড়িটি তার ছেলে বাচ্চু চাকীর হস্তগত হয়।
এ ছাড়া অর্ধেন্দুনাথ চাকী ওরফে আদু বাবু একজন ডাক্তার ছিলেন। ১৯৪৭ সালের দিকে তারা সবাই পেশাগত কারণে কলকাতার শিলিগুড়ি চলে যান। তখন থেকে এ বাড়িটিতে তারকানাথের স্ত্রী ও বাচ্চু চাকী বাস করেন। এরপর বাড়িটির দেখাশোনার দায়িত্বপান তারকানাথ এর ফুফাত ভাই অখিল চাকী। তার মৃত্যুর পড়ে বাড়িটি অভিভাবক শূন্য হয়ে পড়ে। সেই থেকে এ বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কালীমন্দির, লক্ষ্মীমন্দির ও নাটমন্দিরের জায়গা দখল করে এখানে একটি মাদ্রাসা স্থাপন করা হয়েছে।
এ ছাড়া আশপাশের জায়গা অর্ধেক দখল করে বাড়ি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এরশাদের শাসন আমলে এ বাড়িটির সামনের অংশ দখল করে গুচ্ছ গ্রাম প্রতিষ্ঠা করা হয়। ২২টি পরিবারের মধ্যে বর্তমানে ১৯টি পরিবার এ গুচ্ছ গ্রামে বসবাস করছে। পত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বাড়িটির অধিগ্রহণ করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করায় কালের সাক্ষী এ জমিদার বাড়িটি ক্রমেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য একটি কমিউনিট ক্লিনিক কিংবা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ ও একটি শিশুপার্ক নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/এএন
