বাগেরহাটে পৃথক হত্যা মামলায় দুইজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। মোল্লাহাটে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলেকে ফাঁসি এবং মোড়েলগঞ্জে ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে বড় ভাইকে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। আদালত একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের অর্থদণ্ডও দিয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ফজলুল হক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক মোহম্মদ রেজাউল করিম পৃথক আদেশ দেন। ভাই হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ভবসিদ্ধুর অনুপস্থিতেতে এই আদেশ দেয়া হয়। অন্যদিকে বাবাকে হত্যার দায়ে মোল্লাহাট উপজেলার তুহিন কাজী (২৭) রায় ঘোষণার সময়ে কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ভবসিদ্ধু বৈরাগী বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ঢেউয়াতলা গ্রামের বাসিন্দা। একই সঙ্গে বিচারক ভবসিদ্ধুকে পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ভবসিদ্ধু বৈরাগীর স্ত্রী আখি বৈরাগীকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে ২০১৪ সালের ৫ আগস্ট ভোর রাতে ছেলে তুহিন কাজী তার বাবা আবু সাঈদ কাজীকে ঘুমন্ত অবস্থায় ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুমী আক্তার তার ভাই তুহিন কাজীকে আসামি করে মোল্লাহাট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) তুহিন মণ্ডল তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আসামি তুহিনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত তুহিনকে ফাঁসি ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেয়।
অপরদিকে, মোরেলগঞ্জ উপজেলার ঢেউয়াতলা গ্রামে বড় ভাই ভবসিদ্ধু বৈরাগীর সঙ্গে ছোট ভাই অখিল বৈরাগীর (১৭) পৈত্রিক জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জেরে ২০০৮ সালের ১৭ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভবসিন্ধু ছোট ভাই অখিলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পরদিন নিহতের চাচাতো ভাই গুরুদাস বৈরাগী বাদী হয়ে ভবসিন্ধু ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মোরেলগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত শেষে নিহতের বড় ভাই ও ভাবির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত নয়জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে।
ইত্তেফাক/এএসএমইউ
