কুমিল্লায় বন্ধুদের হাতেই খুন হয়েছেন যুবলীগ নেতা এটিএম তারিকুল হাসান (টিটু)। পূর্ববিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। নিখোঁজের ১৪ মাস পর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা মহানগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার পরিত্যক্ত একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে তার মাথার খুলি ও শরীরের বিভিন্ন অংশের ৩১টি হাড় উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত টিটু জেলার দেবিদ্বার পৌরসভার বানিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আবু তাহের মাস্টারের ছেলে এবং পৌর যুবলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। এ কিলিং মিশনে টিটুর বন্ধুসহ ৭-৮ জন সন্ত্রাসী অংশগ্রহণ করে, এর মধ্যে লিমন ও হূদয় নামে দুই ঘাতককে (টিটুর বন্ধু) গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন।
নিহতের পরিবার ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সূত্রে জানা যায়, যুবলীগ নেতা টিটু (২৮) গত বছরের ২ জুলাই নিখোঁজ হন। এ ব্যাপারে জিডির পর চলতি বছরের ৮ মার্চ টিটুর মা রাজিয়া সুলতানা আদালতে মামলা করেন। পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় জেলা ডিবি পুলিশ। ডিবির একটি দল গত ২৮ আগস্ট গভীর রাতে গুলিভর্তি একটি রিভলবারসহ নগরীর অশোকতলা এলাকার ১২ মামলার আসামি ও নগরীর চিহ্নিত সন্ত্রাসী রফিকুল ইসলাম লিমন ওরফে চোরা লিমনকে (৩০) ছোটরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে লিমন তার সহযোগীদের নিয়ে দেবিদ্বারের যুবলীগ নেতা টিটুকে হত্যাসহ লাশ গুম করার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে। সে জানায়, ওইদিন (নিখোঁজের দিন) গভীর রাতেই টিটুকে কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার শ্মশানঘাটে প্রথমে গুলি ও পরে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে লাশ গুম করা হয়। পরে লিমনের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নগরীর ঠাকুরপাড়া এলাকার জিয়াউদ্দিনের ছেলে রিয়াদ উদ্দিন হূদয়কে (২৮) গ্রেফতার করা হয়। পরে পুলিশ উভয়কে নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টা থেকে টিটুর মরদেহের সন্ধানে অভিযান শুরু করে। দুপুর পৌনে ১টার দিকে টিটুর মাথার খুলি, দেহের বিভিন্ন অংশের হাড় উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় বিকালে টিটুর মা রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে গ্রেফতারকৃত লিমন ও হূদয়সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেছেন। ছেলের কঙ্কালের ছবি দেখে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে (টিটু) তার বন্ধুদের হাতে এমন নির্মমভাবে খুন হবে তা কখনো ভাবিনি। টিটুর স্ত্রী এবং সিনান (৬) ও সিতাথী (৪) নামের দুটি শিশু সন্তান রয়েছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান, উদ্ধারকৃত হাড়গুলো ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।
ইত্তেফাক/এএন
