এক জঙ্গির জবানবন্দি

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৬, ২০:৩৬
জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার ও প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মাইনুল হাসান শামীম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার নিজের জঙ্গি পথে সম্পৃক্ত হওয়া এবং কিভাবে দীপনকে হত্যা করা হয়েছে তার আদ্যপান্ত বর্ণনা করেছে শামীম। ছয় বছর আগে গ্রেফতার হলেও হাইকোর্টে জামিন পায় সে। দীপনের   পাশাপাশি শ্বদ্ধস্বরের মালিক আহমেদুর রশীদ টুটুল হত্যা চেষ্টার পরিকল্পনার বিষয়ে অনেক তথ্য দিয়েছে সে। আদালতে দেওয়া তার জবানবন্দির খানিকটা ইত্তেফাকের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হল।
 
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মাধবপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মাইনুল হাসান শামীম (২৪)। তার সাংগঠনিক নাম সিফাত ওরফে নাসির ওরফে ইমরান। সে আনসার আল ইসলামের একজন সক্রিয় সদস্য। ২০১০ সালে ইংরেজি শেখার জন্য সিলেটের এফএম মেথড নামে একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়। সেখানে রাফি ওরফে অমি নামে আনসার আল ইসলামের এক সদস্যের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই বছরই রাফির প্ররোচনায় সে আনসার আল ইসলামে যোগ দেয়। ২০১৪ সালে সিলেটের মদন মোহন ডিগ্রি কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় সরাসরি জিহাদে যোগ দেয় শামীম। ওই বছরই সাগর নামে এক বড় ভাইয়ের কথামতো ঢাকায় চলে আসে। এয়ারপোর্ট ওভারব্রিজের নিচে থেকে সেলিম নামে একজন তাকে আশকোনার একটি মেসে নিয়ে যায়।
 
শামীম জানবন্দিতে জানিয়েছে, ওই মেসে সিয়াম, তাহরিক, মারুফ ও জামান নামে চারজনের সঙ্গে পরিচয় হয়। সেখানে তার কাজ ছিল নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং জিহাদের বই পড়া। সেখানে আড়াই মাস থাকার পর শরিফুল নামে একজন তাকে পিস্তল ও চাপাতি চালানো শেখায়। সেখানেই প্রথম অপারেশন হিসেবে সাভারে ব্লগার রিয়াদ মোর্শেদ বাবুকে হত্যা করে সেসহ কয়েকজন। এরপর বেশকিছুদিন গ্রামের বাড়িতেই ছিল। ৭ মাস পর ফিরে টঙ্গিতে সিয়াম ও সাকিবের সঙ্গে একটি মেসে ওঠে। সেখানে আরো দুই মাস থাকার পর সেলিম নামে এক বড়ভাই প্রকাশক দীপন ও টুটুলকে হত্যার কথা বলে। ওই মেসে তাদের প্রশিক্ষন দিত সামাদ। দীপন হত্যার ২০ দিন আগে মহাখালীর কাঁচা বাজারের পেছনে একটি তিনতলা বিল্ডিংয়ের নিচতলার একটি মেসে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আগে থেকেই মামুররা (এটিবির সামরিক সদস্য) থাকত। এদের মধ্যে আকাশ, তৈমুর ও আলমদের সঙ্গে পরিচয় হয়।
 
মহাখালীর এই মেসেও নিয়মিত ব্যায়াম করতে হতো। যা মামুররা তদারকি করত। শামীমের কথায়, ‘সাগর ভাই একদিন এসে আমাদের জানান, সেনাবাহিনীর অনেক বড় চাকরি ছেড়ে আমাদের সঙ্গে জিহাদ করতে এসেছেন অনেকে। দীপন ও টুটুলের ছবি এবং লালমাটিয়া ও আজিজ সুপার মার্কেটের ম্যাপ দেখিয়ে অপারেশনের ছক চূড়ান্ত করে দেন। কোথায় গাড়ি রেখে কিভাবে যেতে হবে, কিভবে ফিরতে হবে সব চুড়ান্ত করে দেন শামীম ভাই।’ দীপন হত্যার আগের ৭ দিনে সে নিজেই দুইবার ঘটনাস্থল রেকি করে। হত্যার আগের দিন তৈয়ব ৫টি চাপাতি মহাখালীর মেসে পৌছে দেয়। পিস্তুল ও গুলি সেলিম নিজেই পৌঁছে দিয়ে যায়।
 
২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর এটিবির সামরিক শাখার সদস্য আসাদ, আকাশ, আলম, তৈয়ব ও জনি প্রকাশক দীপনকে হত্যা করতে যায়। বাইরের ব্যাকআপ পার্টিতে ছিল শামীম। একই সময় শাকিব, শিহাব, রাফিসহ কয়েকজন লালমাটিয়ায় টুটুলকে হত্যা করতে যায়। বিকেলে মিশন নিশ্চিত করে আমরা ফিরে আসি। পরে জানতে পারি টুটুল মরেনি। এই অপারেশনের পর সাগরভাই আমাকে জানান, ‘আমাদের বড় ভাই মেজর জিয়া। তিনি চাকরি ছেড়ে জিহাদের জন্য এসেছেন। এরপর আমরা বাড্ডার সাতারকুল ও মোহাম্মদপুরে পৃথক দু’টি মেসে অবস্থান করি। মেজর জিয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ট সেলিম ওরফে হাদি নামের একজন। এরপর গত ২৩ আগষ্ট টঙ্গি থেকে পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে।’
 

ইত্তেফাক/এএন