বিভিন্ন স্থানে জমে উঠছে পশু বাজার নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগ

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৬, ০৪:০৩
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে পশুর বাজার জমে উঠছে। কোথাও কোথাও কোরবানির পশু মোটা-তাজাকরণে ব্যবহার হচ্ছে স্টেরয়েড জাতীয় নিষিদ্ধ ওষুধ। আবার কোথাও কোথাও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পশু মোটা-তাজা করা হচ্ছে বলে দাবি খামারিদের। তবে উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বাজারগুলো মনিটরিং করছেন বলে জানান। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
 
বেড়ায় পশু মোটা-তাজাকরণে স্টেরয়েডের ব্যবহার
 
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পাবনার বেড়া উপজেলার খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গরু মোটা-তাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বেশি লাভের আশায় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক ট্যাবলেট বা ইনজেকশন ব্যবহারের মাধ্যমে রোগাক্রান্ত কিংবা কম ওজনের গরু, ছাগল, মহিষ অতি অল্প সময়ে স্বাস্থ্যবান করে তোলার পথ বেছে নিয়েছেন তারা। এতে আসন্ন ঈদুল আজহার কোরবানি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বেড়াবাসী।
 
বেড়ার গরুর বেপারী তজিমউদ্দিন মণ্ডল জানান, প্রায় এক দশক ধরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া বেড়েছে। উপজেলার ১ হাজার খামারি ছাড়াও আরো প্রায় ৫ হাজার ক্ষুদ্র কৃষক নিজ উদ্যোগে গরু মোটা-তাজাকরণ করছেন। তারা পবিত্র কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু-ছাগল মোটা-তাজাকরণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
 
তা ছাড়া এ বছর উপজেলার প্রায় ১ হাজার হতদরিদ্র নারী বিভিন্ন এনজিওর টাকায় গরু-ছাগল কিনে পালন করেছেন। তারাও লাভের আশায় গরু-ছাগল মোটা-তাজাকরণের কাজটি করে চলেছেন।
 
আহাম্মদপুর গ্রামের চাষি উজ্জল হোসেন জানান, সাধারণত কোরবানির ২০/২৫ দিন আগে তারা গরু মোটা-তাজা করার জন্য ওষুধ খাওয়ান। গত এক দশকে শুধু কোরবানির গরু লালন-পালন করে তারা নিজেদের ভাগ্য বদলে ফেলেছেন। সংসারের অভাব ঘুচাতে অনেকে বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে খামার গড়ে তুলেছেন। যে কারণে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে তাদেরকে মোটা-তাজাকরণের মতো অনৈতিক কাজ করতে হচ্ছে।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পশু চিকিত্সক জানান, অধিকাংশ চাষি ক্ষতিকর ওষুধ খাইয়ে গরু-ছাগল-মহিষ মোটা-তাজা করেন। তারা সাধারণত ‘পাম’ বড়ি এবং স্টেরয়েড, প্রি-ডেক্সানল, ডেক্সামেথাসন, বেটামেথাসন, পেরিঅ্যাকটিন, প্যারাডেক্সা ও রোডেক্সান ট্যাবলেট খাওয়াচ্ছেন গবাদিপশুকে। আর বেশি মাত্রায় ওষুধ খাওয়ানোর পর যখন গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন তাদের ডাক পড়ে। এক শ্রেণির হাতুড়ে চিকিত্সক এসব ক্ষতিকর ওষুধ কেনার প্রেসক্রিপশন দিয়ে থাকেন বলেও তিনি জানান।
 
বেড়া উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হারুন অর রশিদ জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমরা গরুর বিভিন্ন বাজার ও খামারগুলোয় মনিটরিং শুরু করেছি। মোটা-তাজাকরণ প্রক্রিয়ার কোনো পশুর সন্ধান পেলে তাত্ক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
সুজানগরে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট
 
পাবনার সুজানগরে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে উপজেলার হাট-বাজারে তত বেশি কোরবানির পশু আমদানি হচ্ছে।
 
জানা যায়, উপজেলায় চারটি বড় পশুর হাট-বাজার রয়েছে। হাট-বাজার চারটি হলো সুজানগর পৌর বাজার হাট, রাইপুর হাট, সাতবাড়িয়া হাট ও শ্যামগঞ্জ হাট। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চারটি হাটেই প্রচুর গরু-ছাগল উঠছে। স্থানীয় গৃহস্থের পাশাপাশি কোরবানির পশু ব্যবসায়ীরাও হাট-বাজারে গরু-ছাগল আমদানি করছে। ব্যবসায়ীরা দেশি গরুর পাশাপাশি ভারতীয় গরু আমদানি করছে। তবে এ বছর উপজেলার চারটি হাটেই দেশি জাতের গরুর আমদানি এবং কদর বেশি। হাট-বাজারে গরু-ছাগলের পাশাপাশি মহিষের আমদানিও যথেষ্ট। তবে মহিষের তেমন চাহিদা নেই।
 
সুজানগর পৌর বাজার হাটের ক্রেতা আফসার আলী মোল্লা জানান, এ বছর কোরবানির পশুর বাজার খুবই চড়া। গত বছর যে সকল গরু ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে এ বছর একই ধরনের গরু ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা দাম হাঁকা হচ্ছে। ছাগল-মহিষের দামও বেশ চড়া।
 
ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে গরু মোটা-তাজা
 
বগুড়ার নন্দীগ্রামের খামারিরা নিষিদ্ধ ট্যাবলেটের মাধ্যমে ও অবৈধ পদ্ধতিতে গরু মোটা-তাজা করে দীর্ঘ তিন বছর যাবত্ লোকসান গুনছেন। তাই তারা এবার আগে থেকেই সতর্ক। বেছে নিয়েছেন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। তারা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করে এবার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছে। জানা গেছে, উপজেলার বুড়ইল, নন্দীগ্রাম সদর, ভাটরা, ভাটগ্রাম, থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার শত শত পরিবার গরু পালনের সঙ্গে জড়িত। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার দাবি জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কড়া নজরদারির ফলে এমন ফল এসেছে। প্রতি বছর কোরবানির ঈদে স্বাস্থ্যবান গরুর চাহিদা থাকে বেশি। দামও মেলে বেশি। তাই গত কয়েকবছর ধরে কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটা-তাজা করে আসছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খামারিরা। ঈদের তিন থেকে চার মাস আগে থেকে চলে মোটা-তাজা করণের কাজ। এসময় বাড়তি খাবার দেয়াসহ চলে সার্বক্ষণিক পরিচর্যা। অনেকে অবশ্য ক্ষতিকর হরমন বা স্টেরয়েট ট্যাবলেট দিয়ে এই চেষ্টা করেন। তবে এবার খামারিদের দাবি- স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু মোটা-তাজা করছেন তারা।
 
আদমদীঘিতে জমে উঠেছে কোরবানির হাট
 
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদর হাটসহ পাঁচটি হাটে কোরবানির পশু বেচাকেনা জমে উঠেছে। কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। কোরবানির জন্য গরু-মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় পশু কম আমদানি হচ্ছে হাটগুলোতে। ফলে গত বছরের তুলনায় চলতি কোরবানির জন্য পশুর দাম অনেক বেশি হওয়ায় ক্রেতারা পশু কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পর্যায়ে সাপ্তাহিক পশুর হাটে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। প্রতিটি হাটে ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ও তার চেয়ে বেশি মূল্যের ষাঁড় বেচাকেনা হচ্ছে।
 
 

ইত্তেফাক/এএন