মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সোমবারের ঝটিকা সফরে তার নিরাপত্তা আয়োজনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা, ভোগান্তিতে পড়েছিল হাজারো মানুষ। অথচ মার্কিন রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত গণমাধ্যম ‘ভয়েস অব আমেরিকা’-র ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করা এক ভিডিওতে রাস্তার দুই পাশে আটকে থাকা মানুষকে দেখানো হয়েছে জন কেরির গাড়ি বহর দেখতে আসা উৎসুক মানুষ হিসেবে!
কেরি সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকায় নামেন এবং বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নয়া দিল্লির উদ্দেশে শাহজালাল বিমানবন্দর ছাড়েন । কর্মব্যস্ত এই সময়ে ঢাকায় নেমেই ধানমণ্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে গিয়ে বাংলাদেশের জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সঙ্গে বৈঠকের পর কেরি বারিধারায় যুক্তরাষ্ট্রের চ্যান্সেরি কমপ্লেক্সে গেলে সেখানে তার সঙ্গে দেখা করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ঢাকা ছাড়ার আগে ধানমণ্ডিতে এডওয়ার্ড কেনেডি সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে তরুণদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেন এবং মিরপুরে একটি তৈরি পোশাক কারখানা পরিদর্শন করেন।
তার পুরো ঢাকা ঘুরে বেড়ানোর সময়ে বাড়তি নিরাপত্তা আয়োজনে নগরীতে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। তার গাড়িবহর যাওয়ার সময়ে হাজারো মানুষ রাস্তার দুই পাশে অসহায় হয়ে দেখেছেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িবহর। অথচ সেই গাড়িবহর থেকে করা এক ভিডিও পোস্ট করে ভয়েস অব আমেরিকার ফেসবুক পেজ থেকে বলা হয়, ঢাকার রাস্তায় মানুষ ভিড় করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িবহর দেখছে। ভিডিওটি কেরির গাড়িবহর কাওরান বাজার থেকে ফার্মগেটের দিকে যাওয়ার সময়ে করা হয়েছে। দেখা যায় হাজারো মানুষ লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে যারা প্রকৃতপক্ষে রাস্তা পার হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।
IMG0
ফেসবুকে এই ভিডিও পোস্ট হওয়ার পরে বাংলাদেশিরা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ফাহিম হাসান নামের একজন লিখেছেন, তারা জন কেরিকে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন না। তারা অসহায় হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তা পার হওয়ার আশায় দাড়িয়ে ছিল। এটা তার জনপ্রিয়তার জন্য হয়নি, এটা ছিল শুধুমাত্র তাকে দেয়া নিরাপত্তা প্রটোকল। এটা এখানের নৈমিত্তিক ব্যাপার।
আলমগীর কবির নামের একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এটা ভিড় নয়, তারা রাস্তা পার হওয়ার অপেক্ষায় আছে। কিন্তু পুলিশ তাদের নিরাপত্তার জন্য বাধা দিচ্ছে। হৃদয় মাহমুদ নামের একজন লিখেছেন, প্রিয় বিশ্বের মানুষ, ভুয়া খবর! মানুষরা রাস্তা পার হওয়ার অপেক্ষায় আছে। জন কেরির জন্য ঢাকা শহরের আড়াই কোটি মানুষের অনেক সময় অপচয় হয়েছে।
ইত্তেফাক/এসএসএ
