প্রিয় রং হলুদ...

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১০:১৭
ঈদে সাধারণত নির্মাণে যেমন নির্মাতারা মুন্সিয়ানার ছাপ রাখতে চান, ঠিক তেমনি শিল্পী নির্বাচনেও নির্মাতারা একটু চমক রাখতে চান। ঠিক তেমনি মাহফুজ আহমেদ প্রযোজিত ইমরাউল রাফাত নির্দেশিত ‘প্রিয় রং হলুদ’ নাটকটির নির্মাণে যেমন নিজের মেধার সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার চেষ্টা করেছেন রাফাত, পাশাপাশি প্রধান দুটি চরিত্রে জাহিদ হাসান এবং পূর্ণিমাকে নিয়ে চমক সৃষ্টিরও চেষ্টা করেছেন তিনি। ‘প্রিয় রং হলুদ’ নাটকের লোকেশন ঘুরে এসে বিস্তারিত লিখেছেন অভি মঈনুদ্দীন।
 
জাহিদ হাসান ও পূর্ণিমা, এদেশের কোটি কোটি ভক্তের প্রিয় দুজন শিল্পী। তাই দুজনকে একসঙ্গে একই নাটকে পাওয়া যেন ঈদে একটু বাড়তি পাওয়া। দর্শকের ভালোলাগার কথা বিবেচনা করেই ‘প্রিয় রং হলুদ’ নাটকে রচয়িতা ও নির্মাতা ইমরাউল রাফাত জাহিদ হাসান ও পূর্ণিমাকে নিয়ে নাটকটি নির্মাণ করেছেন। ঘটনার পিছনে ফিরে তাকালে জানা যায়, যেদিন শুটিং অর্থাত্ গেল ২১ আগস্ট রাতে জাহিদ হাসান স্ক্রিপ্ট পান। কিন্তু স্ক্রিপ্ট পছন্দ না হওয়ায় বিপাকে পড়ে যান নির্মাতা রাফাত। যেহেতু সিডিউল নেওয়া, তাই যেভাবেই হোক ২২ আগস্ট শুটিং করতেই হবে। জাহিদ হাসানের ভালোলাগার মতোই একটি গল্প রচনা করেন নির্মাতা রাফাত নিজেই ২১ আগস্ট রাতে। একরাতেই তিনি বিস্ময়কর এক গল্পের জন্ম দিলেন। সকালে সেই স্ক্রিপ্ট নিয়ে হাজির হলেন জাহিদ হাসানের ধানমন্ডিস্থ বাসায়। স্ক্রিপ্ট পড়ে এককথায় মুগ্ধ জাহিদ হাসান। দুপুরের মধ্যেই শুটিংস্পটে হাজির হলেন জাহিদ হাসান। ব্যস এরপর এভাবেই শুরু হলো ‘প্রিয় রং হলুদ’-এর শুভযাত্রা। নাটকটির শেষদিনের শুটিং ছিল ২৪ আগস্ট। সেদিন ছিল আবার নির্মাতা রাফাতের জন্মদিন। তাই পুরো দিনই শুটিংস্পটে অন্যধরনের এক আমেজ ছিল। জন্মদিন উপলক্ষে শুটিংস্পটে রাফাতের সহধর্মিণী নিপাও উপস্থিত ছিলেন।
 
জানা যায়, দুইটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী জাহিদ হাসান ও পূর্ণিমা এক যুগেরও বেশি সময় আগে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। এটিএন বাংলায় প্রচারিত জাহিদ হাসানেরই নির্দেশনায় ধারাবাহিক নাটক ‘লাল নীল বেগুনী’ নাটকে তারা একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন। অভিনেতা জাহিদ হাসান জানান, নাটকটি রোমান্টিক ঘরানার।
 
আবারও দীর্ঘ সময় পর পূর্ণিমার সঙ্গে অভিনয় এবং ইমরাউল রাফাতের নির্দেশনা প্রসঙ্গে জাহিদ হাসান বলেন, ‘পূর্ণিমা কিন্তু আমার পরিবারেরই একজন। সে আমার ছোট বোনেরই মতো। আমি, আমরা যার যার কাজ নিয়ে এত ব্যস্ত থাকি যে আমাদের দেখা হয় খুব কম। কিন্তু সম্পর্কটা আত্মার। একযুগ পর তার সঙ্গে কাজ করছি—এমনটা কিন্তু রাফাতের নাটকে কাজ করতে এসে মনে হয়নি। পূর্ণিমা বাংলাদেশের একজন সুপারস্টার। কিন্তু তার আচার-আচরণে কখনোই সেটা প্রকাশ পায় না। খুব লক্ষ্মী একটি মেয়ে। ইমরাউল রাফাতের নির্দেশনায় এটা আমার প্রথম কাজ। শিল্পীকে শ্রদ্ধা দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে রাফাত কাজ আদায় করে নিতে জানেন। এটা আমার খুব ভালো লেগেছে।’ পূর্ণিমা বলেন, ‘জাহিদ ভাই-মৌ আপু আমার খুব প্রিয় দুজন মানুষ। আমিও তাদেরকে আমার পরিবারেরই একজন মনে করি। বেশ মনে পড়ছে আজ যে, তাদের মেয়ে পুষ্পিতা যখন ছোট ছিল সেই সময় তাদের বাসায় কত গল্প করেছি, আড্ডা দিয়েছি। সেই স্মৃতি ভোলার নয়। জাহিদ ভাই এমনই একজন মানুষ যিনি আমার সমস্যা নিজের মনে করেই সমাধান করে দিয়ে ভাইয়ের দায়িত্বই পালন করেন। গত ঈদে রাফাতের নির্দেশনায় কাজ করেছি প্রথম। এবারও করছি। রাফাত কোনোরকম চাপ ছাড়া বেশ আরাম দিয়ে কাজ আদায় করে নেন। এটা সবাই পারেন না।’
 
জাহিদ হাসান ও পূর্ণিমাকে নিয়ে কাজ করা প্রসঙ্গে ইমরাউল রাফাত বলেন, ‘আমার কিছু স্বপ্নের মানুষ আছেন যাদের নিয়ে আমি কাজ করতে আগ্রহী, তেমনি দুজন হলেন জাহিদ ভাই, পূর্ণিমা আপু। জাহিদ ভাইয়ের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ তিনি আমাকে ভীষণ সহযোগিতা করেছেন। অনুরূপভাবে পূর্ণিমা আপুর প্রতিও।’ আসছে ঈদে এনটিভিতে প্রচারিত হবে নাটকটি। এদিকে জাহিদ হাসান এরমধ্যে শেষ করেছেন ঈদ ধারাবাহিক নাটক ‘বিউটি বোট’-এর কাজ। এতে তার বিপরীতে আছেন তিশা। পাশাপাশি তিনি নিজের নির্দেশনায় সারিকার বিপরীতে শেষ করেছেন ‘হূদয় রহস্য’ নাটকের কাজ। এটি রচনা করেছেন জাকির হোসেন উজ্জ্বল। এদিকে আসছে ঈদে পূর্ণিমাকে দেখা যাবে রেদওয়ান রনি, সকাল আহমেদ ও এস এ হক অলিকের নাটকে।