নিরাপদ পানি নিশ্চিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে : এডিবির প্রতিবেদন

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৯:৫৫
ভূগর্ভস্ত পানি অতিমাত্রায় উত্তোলন, ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর চাদিহা বৃদ্ধি এবং পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে এশিয়া এবং প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপদ পানির চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এজন্য এখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন উল্লেখ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সম্প্রতি সুইডেন থেকে প্রকাশিত ‘এশিয়ান ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট আউটলুক’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। 
 
এতে বাংলাদেশ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। সেইসাথে ঝুঁকি মোকাবেলায় সুশাসন এবং বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। 
এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের ৪৮টি দেশের সম্প্রতিক তথ্য সন্নিবেশন করে এ প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদনে অনিরাপদ পানির ঝুঁকিতে রয়েছে এমন দেশের সংখ্যা ৩৮টি থাকলেও এবার তা ২৯টিতে নেমে এসেছে।
 
প্রতিবেদনে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংব্যাং সুশান্ত উল্লেখ করেছেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল পানি নিরাপত্তা এখনও ঝুঁকিতে রয়ে গেছে। এই বিষয়টি নিশ্চিত করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।
 
এ অঞ্চলের আর্থ সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে সবার জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করতে হবে। ধনী-দরিদ্র্য, গ্রাম-শহর সবখানে নিরাপদ পানির সেবা পৌঁছে দিতে হবে।
 
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এশিয়া ও প্যাসিফিকের শহরাঞ্চলের ১৭০ কোটি মানুষের স্যানিটেশন সুবিধা নেই। ২০৫০ সাল নাগাদ নিরাপদ পানির চাহিদা বাড়বে প্রায় ৫৫ ভাগ। কিন্তু বর্তমান অবস্থা অপরিবর্তীত থাকলে নিরাপদ পানির বাইরে থেকে যাবে ৩৪০ কোটি মানুষ।
 
পানি নিরাপত্তা বলতে মূলত, পরিবারগুলোর নিরাপদ পানির সহজলভ্যতা, অর্থনৈতিক ভাবে টেকসই করা, শহুরে সেবা নিশ্চিত করা, নদীগুলো পুনরূদ্ধার এবং ইকোসিস্টেম বা বাস্তুসংস্থানকে উল্লেখ করা হয়েছে।
 
প্রতিবেদনে পানি নিরাপত্তা সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অবস্থান একেবারেই তলানিতে। শ্রীলংকা, নেপালের অবস্থান বাংলাদেশের উপরে থাকলেও ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের অবস্থান নিচে রয়েছে। তবে স্যানিটেশনে দক্ষিণ এশিয়ার উন্নতি হয়েছে। পাইপলাইনে পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে। গত কয়েকবছরে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, শ্রীলংকায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে দ্রুত হারে। তবে গঙ্গা অববাহিকার ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশের নদীগুলোর অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং বিগত এক দশকের তথ্যানুযায়ী সূচকে অবনমন হয়েছে। এশিয়ার দেশগুলোতে ১৯৯৫ থেকে ২০১৫ সময়কালে পানি সংশ্লিষ্ট বিপর্যয় হানা দিয়েছে প্রায় আড়াই হাজারের মতো। মারাগেছে ৩ লাখ ৩২ হাজার মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৩৭০ কোটি মানুষ।