জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্কের ক্যালেন্ডারে সেদিন ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা। বাংলাদেশের একাধিক কন্ঠশিল্পী-অভিনেতার আনাগোনা-আড্ডার মুখরতা এই এলাকা। মাত্র কিছুদিন আগে হয়ে যাওয়া একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান উপলক্ষে শাফিন আহমেদ, হামিন আহমেদ জেমস, নিরব,পিয়া, আলিশা, বাপ্পী চৌধুরি এসেছেন ঢাকা থেকে।
তবে খুব অল্পসময়ের জন্য এসে নগরবাউল জেমস ফিরে গেলেন দেশে।
বললেন, ‘নিজের আরো কিছু কনসার্ট শিডিউলের জন্য অস্ট্রেলিয়া,ইতালি রওনা হবেন। অভিনেতা নিরবও তার মুম্বাই ছবির শিডিউলের জন্য ২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ছাড়ছেন। তবে ওয়াশিংটন ডিসিতে ফোবানার পাশাপাশি নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনভেনশন নামের নতুন একটি সংগঠনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হলো, যে ফোবানাসহ অন্যান্য সংগঠন প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের বাঙালী উৎসব বিভিণœ অঙ্গরাজ্যে করলেও উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাঙালীরা নিয়মিতভাবে নিউইয়র্কে তাদের অনুষ্ঠান করে যাবে। আর এ কারণেই বাংলাদেশ কনভেনশন নামের এই সংগঠনটির মাধ্যমে প্রতিবছর নিউইয়র্কে বাঙালী শিল্প-সাংস্কৃতিক মেলা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিল।
১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের পালকী রেস্টুরেন্টে তার প্রেস কনফারেন্সে যেতেই জ্যাকসন হাইটসের সন্ধ্যার রাস্তায় কন্ঠশিল্পী ফাহমিদা নবী, অনামিকা মুক্তিসহ একাধিক শিল্পীকে দেখা মিলল। তারা পরদিন ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন ফোবানায় অংশ নিতে। সেখানে এরই ভেতরে মাকসুদ, শুভ্রদেব,নচিকেতাসহ একাধিখ শিল্পীরা চলে এসেছেন।
ফাহমিদা নবী বলেন, ‘বছরের এই সময়টায় নিউইয়র্ক বা আমেরিকার যে কোনো বাঙালি কমিউনিটিতে এলে মনেই হয়না অন্য কোনো দেশে আছি। তবে এটা খুবই আনন্দের বিষয় তা হলো এই যে একাধিক বিচ্ছিন্ন সংগঠনের হয়ে যে সকলে বিভিন্ন অনুষ্ঠান করছে সবাই , এই সকল উদ্যোক্তা বা সংগঠনের আয়োজকবৃন্দ অন্য অনেককিছু করেই এর থেকে অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারতো, কিন্তু তারা সেটি না করে বাংলা গানের সাথে রয়েছেন। এটাকেই আমি সাধুবাদ জানাই।’
তবে নিউইয়র্কে এই সামাজিক- সাংস্কৃতিক সংকটের ভেতরেও একাধিক সংগঠনের এই উৎসবমুখরতাকে অসাম্প্রদায়িখ বাঙালদের আবারও নতুন করে চেনাতে শেখায়।
পালকি’কে বাংলাদেশ কনভেনশনের সাংবাদিক সম্মেলনের মূল আয়োজক নিউইয়র্কের প্রখ্যাত অর্গানাইজার আলমগীর খান আলম ও বাংলাদেশের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র প্রযোজক শাহীন কবিরের তত্ত্বাবধানে ঢাকার একাধিক শিল্পী ও নিউইয়র্কের স্থানীয় শিল্পীদের তিন দিনের সম্মেলন শুরু হবে আজ থেকে। এ উপলক্ষে খুবই ঘরোয়া পরিবেশে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে এই সম্মেলণে প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীন, রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী অণিমা রায়, তানভীর শাহিন, নাদিম, ইলিয়াসসহ একাধিক শিল্পী ও সংস্কৃতিক কর্মী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কনভেনশনের সভাপতি শাহীন কবির বলেন, ‘এই সম্মেলনটি মূলত আমাদের বাঙালী সকল শিল্পী ও সংস্কৃতিমনা মানুষ ও সংগঠনগুলোকে এক একচ্ছত্র করা। যার যার আলাদা মত বা সংগঠন থাকতেই পারে, এরপরও আমরা তাদেরকে নিয়েই প্রতিবছর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও গানের উৎসবে একত্রিত হবো। একারণেই মূলত আমাদের এই কনভেনশন।
IMG0
অনুষ্ঠানের আয়োজ আলমগীর খান আলম বলেন,‘আমি শুধু এটুকুই বলবো এই ধরনের আয়োজন বাংলাদেশের শিল্পী-সংস্কৃতিমনা মানুষদের আরো উদ্বুদ্ধ করবে। এটা একটা সার্বজনীন উৎসবে আমরা পরিনত করতে চাই।’
সাংবাদিক সম্মেলনে অংশ নেয়া কন্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীন বলেন, ‘বাঙালী দর্শকদের সাথে গানে গানে উৎসবটি মুখর করাটাই আসল কথা। বাংলাদেশ কনভেনশনের এই উদ্যোগ ও তাদের ভাবনা সফল হোক এটাই প্রত্যাশা।’
তবে আশার বিষয় হলো বাংলাদেশ কনভেনশন শুরুর প্রাক্কালে বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজক ও শিল্পীদেরও দেখা গেল। যেমন নিউইয়র্কের প্রখ্যাত অনুষ্ঠান আয়োজক ও কন্ঠশিল্পী তানভীর শাহিন বাংলাদেশ কনভেনশনের অন্যতম সহ আয়োজক হিসেবে থাকছেন। বাঙালীর উৎসবে এমন পারস্পরিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তানভীর শাহিন বলেন, ‘আমার মতে প্রত্যেকের জন্যই এই সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব থাকাটা জরুরী। কারণ এখানে কিন্তু কেউই প্রতিযোগিতা র্যাট রেস খেলতে আসিনি। আমাদের যে কারো বাঙালীদের যে কোনো উৎসব সফল হলেই তা আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক ভাবমূর্তি উজ্জল হবে। যাতে আমরা সকলেই মূলত লাভবান হবো।’
তিনদিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ২,৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর। জ্যাকসন হাইটসের নান্দুস বেলেজীনো অডিটরিয়ামে প্রতিদিন মোট ৬ টি বিষয়ে সেমিনার ও প্রতিদিন একাধিক শিল্পীদের নিয়ে কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে।
