তাকে মা বলেই জানে পুরো পৃথিবী। তবে এবার থেকে তাকে 'ঈশ্বরের দূত' বা 'সেন্ট'ও বলে জানবে। কারণ আগামীকাল রবিবার মাদার তেরেসাকে সেন্ট তেরেসা করতে যাচ্ছে ভ্যাটিকান।
আলবেনিয়ার সেই মেয়েটি, যার নাম ছিল অ্যাগনেস গোনশা বোজাশিউ, তিনিই আরও কয়েক ঘণ্টা পর সেন্ট হতে চলেছেন, দ্য গার্ডিয়ানের খবরে প্রকাশ।
সূত্রের খবরে আরও প্রকাশ, কোনো ব্যক্তিকে সেন্ট হতে গেলে তার আগে বেশ কয়েকটি ধাপ পেরুতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেন্ট হতে মৃত্যুর পর কয়েক’শ বছর লেগে যায়। কিন্তু মাদারের ক্ষেত্রে তা হয়নি। তার মৃত্যুর মাত্র ১৯ বছর পরই ভ্যাটিকান তাকে সেন্ট করতে যাচ্ছে।
ক্যাথলিক চার্চ অনুযায়ী, বিশপের কাছে ভক্তরা কোনো ব্যক্তিকে সেন্ট করার আবেদন জানান। আবেদন পাওয়ার পর বিশপ বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। এরপর সেই ব্যক্তির অলৌকিক ক্ষমতা সম্পর্কে খোঁজ খবর নেওয়া হয়। ওই সময় তাকে 'সারভেন্ট অফ গড' আখ্যা দেওয়া হয়।
এরপর সমস্ত তথ্য প্রমাণ পোপের কাছে পাঠানো হয়। পোপ যদি মনে করেন, ওই ব্যক্তি সেন্ট হতে পারবেন, তাহলে তিনি ওই ব্যক্তির পাপ মুক্তির কথা (বিয়েটিফিকেশন) ঘোষণা করেন। অর্থাৎ তিনি ঈশ্বরের কাছে স্বর্গে প্রবেশ করেছেন।
এরপর সেই ব্যক্তির দ্বিতীয় অলৌকিক ক্ষমতা সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়। দ্বিতীয় পর্যায়েও ওই সমস্ত ধাপগুলো পেরুতে হয়। তারপরই সব কিছু ঠিকঠাক হলে সংশ্লিষ্ট সেই ব্যক্তিকে সেন্ট করার সিদ্ধান্ত নেয় ভ্যাটিকান।
সেন্টের তালিকায় যিনি জায়গা পান, তার নামে নামাঙ্কিত হয় চার্চ। এমনকি, সেন্ট হয়ে গেলে সেই ব্যক্তির ছবির মাথায় থাকবে জ্যোতির্বলয়ও। আর রবিবারই সেই সম্মান পেতে চলেছেন মাদার তেরেসা। সেই মুহূর্তের সাক্ষী হতে রোমে হাজির হয়েছেন কলকাতার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।
আলবেনীয় মা-বাবার সন্তান মাদার তেরেসা তাঁর সেবামূলক কাজের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মানুষের মন জয় করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি শান্তিতে নোবেল লাভ করেন। ১৯৯৭ সালে ৮৭ বছর বয়সে তিনি মারা যান। মৃত্যুর আগপর্যন্ত কলকাতা শহরের বিভিন্ন বস্তিতে দরিদ্র, রোগাক্রান্ত ও মৃতপ্রায় মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন তিনি।
ইত্তেফাক/এএম
