ভাতিজী জামাইকে বাঁচাতে গিয়ে চাচা শ্বশুর নিহত

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ২১:৪১
ভাতিজী জামাইকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নির্মম মৃত্যুর শিকার হয়েছেন রশিদ মিয়া নামে এক চাচা শ্বশুর। আহত হয়েছেন খোরশোদ মিয়া ও আসাদ মিয়া নামে আরো দুই চাচা শ্বশুর। 
 
শনিবার সন্ধ্যায় নরসিংদীর বাসাইল গোলচত্বরে  এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। 
 
জানা গেছে, নরসিংদী শহরের বানিয়াছল মহল্লার কামাল মিয়ার পুত্র স্বপনের বাড়ি মাধবদী এলাকয়। তিনি বানিয়াছল এলাকায় ভাড়াটে বাড়িতে থেকে ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। শনিবার সন্ধ্যার আগে তিনি শহর থেকে কয়েকজন যাত্রী নিয়ে বাসাইল গোলচত্বরে যান। সেখানে যাত্রীরা নেমে ভাড়া না দিয়েই চলে যেতে থাকলে স্বপন তাদেরকে ডেকে ভাড়া দাবি করেন। এতে উশৃংখল কয়েকজন যাত্রী তাকে মারপিট করতে থাকে। এ অবস্থায় তিনি মোবাইল ফোনে তার শ্বশুর বাড়ি খবর দেন। খবর পেয়ে বানিয়াছল মহল্লা থেকে তার চাচা শ্বশুর রশিদ মিয়া, খোরশেদ মিয়া ও আসাদ মিয়া ৩ ভাই মিলে দ্রুত ঘটনাস্থলে দৌড়ে যান। সেখানে গিয়ে উশৃংখল যাত্রীদের জিজ্ঞেস করলে ওই যাত্রীরা তাদের উপর চড়াও হয়। তাদেরকে এলোপাতারি মারধোর শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা রশিদ মিয়া, খোরশেদ মিয়া ও আসাদ মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে। এতে রশিদ মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। 
 
এতে মারাত্মক আহত অবস্থায় খোরশেদ মিয়া ও আসাদ মিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় খোরশেদ মিয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, ইজিবাইকের যাত্রীরা কোন পেশাদার অপরাধী গ্রুপের সদস্য। তাদের কাছে ছুরিসহ বিভিন্ন অস্ত্রশস্ত্র ছিল। ঘটনাস্থলে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে রশিদ মিয়া, খোরশেদ মিয়া ও আসাদ মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে। এতে এলাকার লোকজনের ধারণা যাত্রীবেশীরা কোন অপরাধীচক্রের সদস্য। তারা কোন অপরাধ সংঘটনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। 
 
নিহত খোরশেদ মিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।