শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জঙ্গিবাদ বিরোধী সভা আয়োজন করেছে দেশের সব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতে শিক্ষার্থীদের অঙ্গিকার করানো হয় এসব সভা থেকে।
এসব সভায় বক্তারা বলেন, যারা এই সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন এবং যারা এসব কাজে জড়িত তারা দেশ ও জাতির শত্রু তারা দেশদ্রোহী। জঙ্গি কর্মাকাণ্ডে যুক্ত হলে তার পরিণতি কী হতে পারে এবং জঙ্গিদের বর্তমান দুরবস্থার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের।
‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে । সভায় শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত উগ্র সাম্প্রদায়িক স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে বারবার যড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এ অপশক্তি বাংলাদেশের বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত অগ্রগতি ও সাফল্যকে থামিয়ে দিতে জঙ্গিবাদে মদদ দিচ্ছে। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদকে সমূলে নির্মূল করতে হলে এ মদদদাতাদের অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে। এক্ষেত্রে ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকসহ দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের সহযোগিতা চান শিক্ষামন্ত্রী। আলোচনা সভায় শিক্ষাসচিব মো. সোহরাব হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আকতারুজ্জামান ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. ফরিদ উদ্দিন আহমদও বক্তব্য রাখেন। শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মাকসুদ কামাল অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন।
ঢাকার বেইলি রোডে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজের পক্ষ থেকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজ মিলনায়তনে এ আলোচনা সভায় শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি এ এস মাহমুদ, নটরডেম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফাদার বেনজামিন ডি কস্তা, রমনা জোনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শিবলী নোমান এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান কাজল বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ কানিজ ফাতেমা মাহমুদ সভাপতিত্ব করেন। ইডেন মহিলা কলেজে ‘জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিত নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুণ অর রশিদ। আলোচনা সভায় উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের জঙ্গি ও সন্ত্রাসের পথ বাদ দিয়ে শান্তির দিকে হাঁটতে হবে। বিশ্বের মাঝে বাংলাদেশকে পরিচিত করাতে প্রতিযোগিতা করতে হবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।
ইডেন কলেজের অধ্যক্ষ গায়ত্রী চ্যাটার্জি বলেন, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একজন আদর্শ নাগরিক তৈরি করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ সব সময় কাজ করছে। কিন্তু কিছু শিক্ষার্থীর কারণে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে কলেজের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। তাই এখন কলেজে অনুপস্থিত থাকলেই তাঁদের অভিভাবকদের জানানো হচ্ছে । ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শফিকুর রহমান, পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মো. ইব্রাহীম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান প্রমুখ।
ঢাকা সেনানিবাসস্থ শহীদ বীর উত্তম লেঃ আনোয়ার গার্লস কলেজে সন্ত্রাস বিরোধী সভায় সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল রশিদুল ইসলাম খান। সভা থেকে সহিংসতার বিরুদ্ধে নিন্দা জানানো হয়।
আশা ইউনিভার্সিটি আয়োজিত সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. ডালেম চন্দ্র বর্মণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইকবাল আহমদ, সিনিয়র এ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার, হাফিজ আল ফারুক বক্তব্য রাখেন।
প্রাইম ইউনিভার্সিটি আয়োজিত সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সিনিয়র সদস্য মীর সাহাবুদ্দিন, আশ্রাফ আলী, অধ্যাপক আব্দুস সোবহান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভায় বক্তারা বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) আয়োজিত সভা শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।
রাজধানীর অগ্রণী হাইস্কুল আয়োজিত সভায় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ রেজাউজ্জামান ভূঁইয়া, প্রতিষ্ঠান গভর্নিং বডির সদস্য আবুল খায়ের, শেখ আলমগীর, শিক্ষক প্রতিনিধি জাকির হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। সভায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা অংশ নেন।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, আজিমপুর শাখা আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় শাখাপ্রধান (দিবা) লাইলুন নাহারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত শাখাপ্রধান (প্রভাতি) শামসুন আরা সুলতানা, অতিথি মো. কায়সারুল ইসলাম, শাহ মো. আবদুল বারী, মো. মনিরুজ্জামান, মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন খান, ডা. মুসাররাত সুলতানা প্রমুখ।
ইত্তেফাক/এএন
