আজকের ‘অনন্যারা’ পিছিয়ে পড়া নারীদের পথ দেখাবেন

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ২৩:৪৫
সমাজের নানা বাধা পেরিয়ে নারীর অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক পথ বাকি। যারা ‘অনন্যা’ হয়েছেন তাদের অনুসরণ করে সমাজের প্রতিটি স্তরে নারীরাও একই উচ্চতায় উঠবেন। আজকের অনন্যারা পিছিয়ে পড়া নারীদের পথ দেখাবেন। তাদেরকে আলোর দিকে নিয়ে যাবেন।
 
গতকাল শনিবার ‘অনন্যা শীর্ষদশ-২০১৫’ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া নারীরা এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় এই অনুষ্ঠানে। মানবিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নিজেদের সক্ষমতা ও অগ্রগতিকে তুলে ধরছেন, ১০টি বিভাগে এমন ১১ নারীকে তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ গতকাল এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে পাক্ষিক অনন্যা এ সম্মাননা প্রদান করে। সম্মাননা প্রাপ্ত নারীদের দেয়া হয় উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও সনদপত্র। সম্মাননা তুলে দেন নারী আন্দোলনের তিন বিশিষ্ট নেত্রী মাহফুজা খাতুন, খুশী কবির এবং ডা. দীপুমণি। অনন্যার সম্পাদক ও প্রকাশক তাসমিমা হোসেনের সঞ্চালনায় সম্মাননা প্রদান পর্বটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
 
অনুষ্ঠানের শুরুতেই তাসমিমা হোসেন বলেন, নারীদের প্রতি অন্যায়ের কথা নারীদেরই বলতে হবে। দাবি না তুললে, কথা না বললে সমাজ থেকে অন্ধকার দূর হবে না। তিনি বলেন, এখনও সময়টা নারীদের জন্য অনুকূল নয়। যৌন নিগ্রহ সমাজ থেকে এখনো দূর করা যায়নি। নিজেদের বঞ্চনার কথা বলতে এখনো মেয়েরা ভয় পায়। বর্তমান সরকার নারীবান্ধব সরকার। সরকারও নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান সুসংহত করতে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। সমাজের বাধা পেরিয়ে নারীর অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক পথ বাকি।
 
১০টি বিভাগে এবারের সম্মাননাপ্রাপ্ত ১১ বিশিষ্ট নারী হলেন- লুভা নাহিদ চৌধুরী (সাংগঠনিক দক্ষতা), সোনিয়া বশির কবির (প্রযুক্তিপেশা), ওয়াসফিয়া নাজরীন (পর্বতারোহণ),  মালিহা এম কাদির (উদ্যোক্তা), অণিমা মুক্তি গোমেজ (সংগীত), সুপ্রীতি ধর (সাংবাদিকতা), মাবিয়া আক্তার ও  মাহফুজা খাতুন (খেলাধুলা), অপর্ণা ঘোষ (চলচ্চিত্র), উম্মে তানজিলা চৌধুরী মুনিয়া (শিক্ষা) এবং সাহিদা আক্তার স্বর্ণা (সমাজকর্ম)।
 
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সাল থেকে অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননার যাত্রা শুরু হয়। এ পর্যন্ত ২২০ জন কৃতী নারী পেয়েছেন এই স্বীকৃতি। শীর্ষদশ সম্মাননাপ্রাপ্ত ২২০ নারীর অর্জন ও জীবনসংগ্রাম নিয়ে প্রকাশিত অনন্যা শীর্ষদশ কফি টেবিল বুকের দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হচ্ছে এবার।
 
অনুষ্ঠানে লুভা নাহিদ চৌধুরী বলেন, সমাজে আরো অনেক যোগ্য নারী আছে, আশা করি অনন্যা তাদের খুঁজে বের করে সম্মানিত করবে। অন্যদিকে সোনিয়া বশির কবির বলেন, আমার ক্ষেত্র প্রযুক্তি। এই ক্ষেত্রে এখনো পুরুষের প্রাধান্য বিদ্যমান। আশা করি, আমার মতো আরো অনেক নারী এই ক্ষেত্রে এগিয়ে আসবেন।
 
মালিহা এম কাদির অনন্যার সম্মাননা প্রদানের প্রশংসা করে বলেন, মেয়েদের কাজের ক্ষেত্রে একটি রোলমডেল থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সম্মাননাপ্রাপ্ত অণিমা মুক্তি গোমেজ বলেন, একসময় লোকসংগীত শিল্পীদের কিছুটা হেয় চোখে দেখা হত। তাদের সম্মাননা দেওয়া মহান একটি কাজ। সুপ্রীতি ধর তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সাহসী নারীরা একটা প্ল্যাটফর্ম পেয়েছেন। আমার মনে হয় আজকের এই অর্জন আমাদের শক্তি ও প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। 
 
মাহফুজা খাতুন সাঁতারে সাফ গেমসে স্বর্ণজয়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীদের জন্য আরো সুযোগ সৃষ্টির জন্য অনুরোধ করেন। মাবিয়া আক্তার তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নারীদের খেলাধুলার ক্ষেত্রে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির বদল হওয়া খুব দরকার। অন্যদিকে, নারী নয় বরং মানুষ হিসেবেই কাজ করে যেতে চান বলে মন্তব্য করেন অপর্ণা ঘোষ। তিনি বলেন, আমার পরিবার বিশেষ করে বাবা আমাকে মানুষ হিসাবে বড় হওয়ার প্রেরণা যুগিয়েছেন।
 
উম্মে তানজিলা চৌধুরী মুুনিয়া বলেন, যৌন হয়রানির সবচেয়ে বেশি শিকার হন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীরা। প্রতিবন্ধীদের সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি সমাজের কাছে দাবি জানান। বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রতিবাদী তরুণী সাহিদা আক্তার স্বর্ণা বলেন, আমি চাই বাংলাদেশে হাজার হাজার স্বর্ণা ভবিষ্যতের মালালা হয়ে উঠুক।
 
অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া নারীদের নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর সঙ্গে ছিল সাধনা নিবেদিত নৃত্যানুষ্ঠান এবং ভাবনগর পরিবেশিত চর্যাপদের গান। এবারের শীর্ষদশ সম্মাননা পাওয়া কণ্ঠশিল্পী অণিমা মুক্তি গোমেজও লোকসংগীত পরিবেশন করেন।
 
 

ইত্তেফাক/এএন