অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে পায়রা সমুদ্রবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হল। শনিবার বেলা ২-৫৫ মিনিটে ১২ হাজার ৫০২ টন ক্লিংকারবাহী মাদার ভেস্ল্ ‘এফ এস বীচ’ থেকে লাইটার জাহাজ এমভি চান সরদারে ক্লিংকার লোড করার মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ফলে এ ক্ষণটি দেশের ইতিহাসের একটি নতুন অধ্যায় হয়ে থাকল। রামনাবাদের অভ্যন্তরীণ ইনার চ্যানেল চারিপাড়া পয়েন্টে এ পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু হয়। মালয়েশিয়া থেকে মদিনা গ্রুপের ক্লিংকার নিয়ে ১৪ আগস্ট বহির্নোঙ্গরে এসে পৌঁছে মাদার ভে্সল ‘এফএস বীচ’। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পণ্য এতোদিন খালাস করা যায়নি। লাইটার জাহাজ এমভি চান সরদার ১১শ’ টন ক্লিংকার বোঝাই করে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মদিনা গ্রুপের আরো তিনটি জাহাজ ‘হাজী সেলিম-২’, ‘হাজী সেলিম-১’ ও ‘বেগম সালেহা’ বাকি পণ্য নিয়ে ঢাকার মেঘনাঘাটের উদ্দেশে রওনা হবে। পণ্য খালাশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় মিলাদ ও দোয়া মোনাজাতের মধ্য দিয়ে।
এসময় বন্দর চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন সাইদুর রহমান, মদিনা গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোলায়মান সেলিম, মদিনা গ্রুপের ডিজিএম মাহাবুব আলম, ডিজিএম কামরুল হাসান, উপদেষ্টা গোলাম হোসেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মাদার ভ্যাসেল এফ এস বীচ এর ক্যাপ্টেন ডোয়ান মাই ফু জানান, সাগর মোহনা থেকে এ চ্যানেলের চারিপাড়া পয়েন্টে পণ্যবাহী জাহাজ নিয়ে আসতে নাব্যতা সমস্যায় পড়তে হয়নি, বরং স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন। লাইটার জাহাজ এমভি চান সরদারের মাস্টার নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমি প্রথম জাহাজে এ বন্দর থেকে পণ্য বহন করতে পেরে আনন্দিত, আপ্লুত।’ তিনি জানান, দুর্যোগকালেও এ বন্দরের রামনাবাদ চ্যানেলে পণ্য খালাস করতে কোনো সমস্যা হবে না। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার এম হাবিব-উল-আলম জানান, বহির্নোঙ্গর থেকে পণ্যবাহী মাদার ভেেস্ল রামনাবাদ চ্যানেলে নিয়ে আসতে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। ভুগতে হয়নি কোনো শঙ্কায়।
বন্দরসূত্রে জানা গেছে, আজ রবিবার পণ্যবাহী জাহাজ ‘ফরচুন বার্ড’ পণ্য খালাশের জন্য রামনাবাদ চ্যানেলে এসে পৌঁছবে। আরো পণ্যবাহী কয়েকটি মাদার ভে্স্ল রামনাবাদ চ্যানেলে এসে পৌঁছবে।
ইত্তেফাক/এএন
