পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, যে সমাজে অন্যায়-অবিচারের প্রতিকার থাকে না, যে সমাজে আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ হয় না, যেখানে স্বজনপ্রীতি আর ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া কিছুই অর্জন হয় না, সে সমাজে প্রতিবাদ দানা বেঁধে উঠবে। তবে প্রতিবাদ আর জঙ্গিবাদের অর্থ এক নয়। পাশাপাশি জঙ্গিবাদ আর ধর্মপরায়ণতাকে এক করে দেখাও ঠিক নয়। তাই জঙ্গিবাদ কি সে সম্পর্কে জানতে হবে, সন্ধান করতে হবে তার স্বরূপ এবং উত্স।
তিনি গতকাল শনিবার ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজে এক সভায় এ কথা বলেন। দেশব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিরোধী কর্মসূচির অংশ হিসাবে অনুষ্ঠিত কলেজের ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকদের সভায় মন্ত্রী আরো বলেন, জঙ্গিবাদ এখানে কোনোভাবে যাতে আশ্রয়-প্রশ্রয় না পায় সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, সচেতন থাকতে হবে। তাদের কোনো তত্পরতা সম্পর্কে তথ্য পেলে তা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের দেশ জঙ্গি তত্পরতার জন্য কোনো সময়ই উপযোগী ছিল না, এখনো নাই, ভবিষ্যতেও থাকবে না। এ দেশে অনেক কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, চিত্রকর জন্মগ্রহণ করেছেন। এ দেশে জঙ্গিবাদের স্থান হবে না।
তিনি বলেন, জঙ্গিবাদের উত্স খুঁজে বের করতে হবে। এ উত্স আন্তর্জাতিক, সিরিয়ায় যা ঘটছে, যেভাবে মানুষকে ঘরছাড়া করা হচ্ছে, দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে এবং মিডিয়ায় প্রচার করে বিশ্বব্যাপী এক ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের দেশেও বর্তমান প্রজন্মসহ সবাইকে নিয়ে এর প্রতিবাদ করা কর্তব্য। সমাজের চতুর্দিকে যে অন্যায়-অবহেলা-উদাসীনতা-বঞ্চনা দেখা দিয়েছে তার সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ জঙ্গিবাদের বীজ বুনতে চায়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষককে এর সঙ্গে জড়িত দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করে সজাগ করে দেশপ্রেমিক, আইনানুগ, দায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে তাদের গড়ে তুলতে হবে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, যতদিন না পর্যন্ত সমাজে মানসিকতার পরিবর্তন না আসবে, নিজেদের কাজ নিজেরা স্থানীয়ভাবে সম্পাদন না করে কেন্দ্রের প্রতি মুখাপেক্ষী থাকবে ততদিন পরনির্ভরতার কারণে নানা সমস্যা দেখা দেবে। তিনি ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজসহ মফস্বলের সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকটকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করে বলেন, এ কলেজটি ৩০ বছর আগে জাতীয়করণ হওয়ার পর এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারিকরণের সুযোগ নিয়ে শিক্ষকরা বড় বড় শহরের কলেজে চলে গেছেন। আর মফস্বলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার মান নীচের দিকে চলে যাচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষক সংকট দূর করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ৩২ বছর আগে আমরা যখন ভান্ডারিয়া আসি তখন এ কলেজটির অবকাঠামোগত অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। এখন বড় বড় দালান হয়েছে, ক্লাস রুম হয়েছে; কিন্তু লেখা-পড়ার মান বাড়েনি। নির্মিত দালান-কোঠার মানও ভালো নয়, দায়িত্বহীনতা, উদাসীনতা, রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা আর কেন্দ্র নির্ভরতার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। সার্বিক অবস্থায় নতুন প্রজন্মকে ন্যায়-অন্যায় দেখে উদাসীনতা বর্জন করে নিজেদের জঙ্গিবাদের মত ব্যাধিকে প্রতিরোধ করার জন্য তৈরি হতে হবে। পাশাপাশি তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আগামী দিনের নেতৃত্বে আসার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে মনোযোগ সহকারে পড়াশুনার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা ভান্ডারিয়াসহ এ অঞ্চলে যে পরিবর্তনের ধারা ৩২ বছর আগে শুরু করেছিলাম তা যে কোনো মূল্যে বজায় রাখতে হবে।
ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এম.ডি মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে এ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম তালুকদার উজ্জল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, কলেজের শিক্ষক মোঃ আনোয়ারুল্লাহ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান তালুকদার, প্রাক্তন ছাত্র ও আওয়ামী লীগ নেতা হাফিজুর রশীদ তারেক প্রমুখ।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের পিরোজপুর জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফায়জুর রশীদ খসরু, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, উপজেলা জেপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান মৃধা, জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন প্রমুখ।
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল বিকালে জিয়ানগরে (ইন্দুরকানী) উপজেলা ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী, ইউএনও মৃধা মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট মতিউর রহমান, উপজেলা জেপি’র আহ্বায়ক আসাদুল কবির তালুকদার স্বপন, পাড়েরহাট ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার, পত্তাশী ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন বয়াতি প্রমুখ। এরপর মন্ত্রী স্থানীয় সেতারা স্মৃতি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। এসময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাবেরা সুলতানাসহ অন্যান্য শিক্ষক তাঁকে স্বাগত জানান।
কাউখালীতে সমাবেশ
কাউখালী সংবাদদাতা রবিউল হাসান রবিন জানান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গতকাল দুপুরে কাউখালী উপজেলার আমরাজুড়ি ইউনিয়নের গোপালপুরে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। মোঃ রস্তুম আলীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আহসান কবির, উপজেলা জেপি’র সভাপতি মাহবুবুর রহমান খান, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম নসু, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু আহম্মেদ, আমরাজুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সামসুদ্দোহা চাঁদ, যুব সংহতির আহ্বায়ক মঞ্জুরুল মাহফুজ পায়েল, ইউপি সদস্য সমীরণ সরকার, সাবেক ইউপি সদস্য ইন্দ্রজিত কুণ্ডু, অনিমেষ মণ্ডল প্রমুখ।
পরে মন্ত্রী উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের গোয়ালতা হাওলাদার বাড়ির সামনের খালের উপর দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নির্মিত আরেকটি ব্রিজের উদ্বোধন করেন এবং দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলের কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাবণী চাকমা, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা ইয়াসমিন চৌধুরী পপি, কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাইদ মিয়া মনু আমরাজুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শেখ সামসুদ্দোহা চাঁদ জেপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ আলম তালুকদার, সমাজসেবক আব্দুল লতিফ খসরু, জাহিদ হোসেন সিকদার, প্রভাষক হারুন আর-রশীদ, যুব সংহতির সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন নসু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিল্টন, সদস্য সচিব জিয়াউল হাসান জুয়েল, শ্রমিক পার্টির সভাপতি হারুন-আর রশীদ, কৃষক পার্টির সভাপতি হারুণ আর রশীদ, সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়ন জেপির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস খান, মহিলা পার্টির সভানেত্রী সাহিদা জেসমিন, সাধারণ সম্পাদিকা আকতারুন নাহার রেবা, জাতীয় মত্স্য পার্টির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ প্রমুখ।
ইত্তেফাক/এএন
