মধুখালীতে নদীগর্ভে বিলীন মসজিদ ও দুটি বিদ্যালয়সহ পাঁচশ’ বসতঘর

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০১:৪৬
মধুখালীতে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে একটি মসজিদ ও দুটি প্রাচীন বিদ্যালয়সহ প্রায় পাঁচশ’ বসতঘর। গত কয়েকদিন ধরে মধুমতি ও গড়াই নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের বসতবাড়িসহ শেষ সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও শতাধিক পরিবার। আর পানিবন্দী হয়ে আছে পাঁচ শতাধিক পরিবার। জানা যায়, উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নে গয়েশপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯২৩ সালে এবং গয়েশপুর-বকশীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭৩ সালে স্থাপিত হয়। পাশাপাশি দুটি বিদ্যালয় মধুমতি ও গড়াই নদীর মাঝখানে অবস্থিত। দুটি বিদ্যালয় স্থাপনের ব্যবধান ৫০ বছর হলেও সমপ্রতি একই সাথে মধুমতি ও গড়াই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেল দুটি বিদ্যালয়ের পাকা-সেমিপাকা মিলিয়ে নয়টি ভবন। গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুটি বিদ্যালয়ের নয়টি ভবন থেকে আসবাবপত্র সরানো হয়। খুলে ফেলা হয় দরজা, জানালাসহ অন্যান্য সামগ্রী। এখন শুধু বিলীনের অপেক্ষায় বিদ্যালয়ের বাকি ভবনগুলো। ভাঙনের কারণে গয়েশপুর-বকশীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পাঠদান গত বুধবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরফলে ওই বিদ্যালয়ের ১৮৫ জন শিক্ষার্থীর পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গয়েশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে ওই বিদ্যালয়ের ১৬২ জন শিক্ষার্থীর। শুধু দুটি বিদ্যালয়ই নয়, ওই ইউনিয়নের গয়েশপুর, চর গয়েশপুর, বকশীপুর, আড়পড়া,  জারজন নগর ও স্বরবরাজন- এই ছয়টি গ্রামে মধুমতী নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে ভাঙন শুরু হলেও গত কয়েকদিন ধরে নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় পাঁচশ’ পরিবার তাদের বসতবাড়িসহ শেষ সম্বল হারিয়েছে।
 
ইউএনও লুত্ফুন নাহার বলেন, ওই এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে এবং স্কুলের ভবনগুলো রক্ষার জন্য আমি পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সকলকে উদ্যোগ নিতে বলেছি। এছাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। ফরিদপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, গয়েশপুর বকশীপুর এলাকায় পাউবোর কোনো প্রকল্প চলমান নেই। এজন্য আমাদের কাজ করার সুযোগ কম। তবে স্কুল ভবনগুলো শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যারা নির্মাণ করেছে তাদেরই প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হাতে নেওয়া উচিত।
 
 
ইত্তেফাক/এএন