কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের গাইটুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো পাকা ভবন নির্মিত হয়নি। এছাড়া শিক্ষক, টয়লেট ও পানি সঙ্কটের পাশাপাশি নোংরা পরিবেশসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত বিদ্যালয়টি। পুরাতন ও জরাজীর্ণ স্কুলঘরে শ্রেণি কক্ষ সঙ্কট প্রকট। এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জানা যায়, গাইটুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ২০০১ সালে স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠার শুরুতেই একটি টিনের ঘর নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ঘরটির জরাজীর্ণ অবস্থা। ব্যবহার অযোগ্য এ ঘরটিতে একটু বৃষ্টি হলেই পানি গড়িয়ে পড়ে । ঘরটির চারদিকে মাটি না থাকায় নেই কোনো নিরাপত্তা। যে যখন খুশি বিদ্যালয়টিতে প্রবেশ করতে পারে। ইচ্ছেমত গরু, ছাগল, কুকুরের প্রবেশে তৈরি হওয়া নোংরা পরিবেশ, টয়লেট ও পানির সঙ্কটসহ নানা সমস্যায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। কয়েকটি খুটির উপর টিকে আছে বিদ্যালয়টি। ফলে যে কোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় তিনশ’ শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থী অনুসারে সাতজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও সেখানে রয়েছে মাত্র চারজন। এরপর দীর্ঘদিন থেকেই নেই প্রধান শিক্ষক। একটি অফিস রুম ও ৩টি শ্রেণিকক্ষ নিয়ে গাদাগাদি করে চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। বেঞ্চের অভাবে শিশুরা দাঁড়িয়ে ও মেঝেতে বসে ক্লাস করে। এসব জরাজীর্ণ টিনের ঘরে কোনো রকমে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকলিমা বেগম জানান, কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো আশ্বাস মেলেনি। অথচ বর্তমান স্কুল ঘরটিতে ক্লাস নেয়া মানে শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া। তাই তো ঝড়বৃষ্টির সময় শিশুদের ক্লাসের বদলে পাঠিয়ে দেয়া হয় বাড়িতে। এতে পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এএনএম মাহবুব আলম জানান, নতুন ভবনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এ অর্থ বছরের মধ্যে নতুন ভবনের আশ্বাস দিয়েছে।
ইত্তেফাক/এএন
