বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর এম আব্দুর রহিমের ইন্তেকাল

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৮:০৯
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুক্তিযুদ্ধকালীন পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের জোনাল চেয়ারম্যান ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর সাবেক এমপি এম আব্দুর রহিম রবিবার ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে---রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। 
 
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র, ৪ কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার বড়পুত্র এম. ইনায়েতুর রহিম বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং ছোট ছেলে ইকবালুর রহিম জাতীয় সংসদের হুইপ।
 
এম. আব্দুর রহিম ১৯২৭ সালের ২১ নভেম্বর দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের এক সম্ভান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। পাক বাহিনীরা দিনাজপুর আক্রমণ করলে এম আব্দুর রহিমকে আহ্বায়ক করে দিনাজপুরে মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। মানবিক মূল্যবোধ আর দেশাত্ববোধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে তিনি ভারতের পতিরাম, রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, বালুরঘাট, গঙ্গারামপুরসহ বিভিন্ন এলাকার শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ৭১-এর ১৭ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন হলে গোটা দেশকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১১টি বেসামরিক জোনে ভাগ করা হয়। মুজিবনগর সরকার এম আব্দুর রহিমকে পশ্চিম জোনের জোনাল চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ১৮ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় দিনাজপুর গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম দিনাজপুরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় মিত্র বাহিনীর এ অঞ্চলের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার ফরিদ ভাট্টি ও কর্ণেল সমশের সিং এর নেতৃত্বে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। 
রাজনীতিক এম আব্দুর রহিম সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন তখন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এম আব্দুর রহিম ১৯৯১ সালে দিনাজপুর সদর আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য পুনরায় নির্বাচিত হন। 
 
তিনি বেশ কিছুদিন যাবৎ বার্ধক্যের কারণে অসুস্থ থাকলে তাকে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার বড়পুত্র বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম। তার মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছলে দিনাজপুরে নেমে আসে শোকের ছায়া।