অযত্ন অবহেলায় বঙ্গবীর ওসমানীর বাড়ি

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০০:৫৩
অযত্ন আর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ওসমানীনগর উপজেলায় বঙ্গবীর ওসমানীর বাড়ি।  ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দু’পাশেই ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর বাজার। বাজার থেকে রাস্তার পূর্ব দিকে চলে যাওয়া আধাপাকা সড়কটি ধরে পাঁচ মিনিট হাঁটলেই চোখে পড়বে হলদে রঙের প্রাচীর ঘেরা একটি বাড়ি। এই বাড়িই মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর মোহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর (এমএজি ওসমানী) পৈতৃক ভিটা। কিন্তু বাড়িটি দেখে বোঝার উপায় নেই বাংলাদেশের প্রথম সেনানায়কের বাড়ি এটি। নেই কোনো নাম ফলক কিংবা সাইনবোর্ড; এমনকি ওসমানীর একখানা ছবিও।
 
১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্ম হলেও বঙ্গবীর ওসমানীর পৈতৃক বাড়ি ওসমানীনগর উপজেলার (তত্কালীন বালাগঞ্জ) দয়ামীরে। ওসমানীর বাবা তত্কালীন সুনামগঞ্জ সদর মহকুমার সাব-ডিভিশনাল অফিসার খান বাহাদুর মফিজুর রহমান বাড়ির পাশেই তার বাবা আবদুস সুবাহানের নামে প্রতিষ্ঠিত করেন প্রাথমিক বিদ্যালয়। নারী শিক্ষার প্রসারে ১৯২৯ সালে একমাত্র মেয়ের নামে গড়ে তোলেন সদরুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়। যা কিনা ওই এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। চিরকুমার বঙ্গবীর ওসমানীর বাড়িতে তার কোনো উত্তরসূরি না থাকলেও নিয়মিত থেকে বসত ঘরগুলো দেখভাল করেন কমর উদ্দিন।
 
তবে ওসমানীর কোনো স্মৃতিই নেই এ বাড়িতে। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি লন্ডনে মারা যাওয়ার পর তার লাশ দাফন করা হয় হজরত শাহজালাল (র.) এর মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে। এ বাড়িতে ওসমানীর ব্যবহূত ছবি কিংবা অন্য কোনো জিনিসপত্র নেই। যা আছে সিলেট নগরে তার বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত জাদুঘরেই রাখা হয়েছে।
 
ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, আমি এ উপজেলায় যোগদান করার পর উপজেলায় স্থাপিত ওসমানী স্মৃতি জাদুঘরসহ দয়ামীরে তার বসতবাড়িটি পরিদর্শন করেছি। এগুলো সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর জানিয়েছি।
 
 
ইত্তেফাক/এএন