চড়ুই পাখির কোলাহলে ঘুম ভাঙছে শহরবাসীর

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৮:৪৪
চড়ুই পাখির কিচির মিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে শহরের ব্রিজের মোড় এলাকা। বিকেলে থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত মুখরিত থাকে পাখির কিচির মিচির শব্দ। পাখির কোলাহলে ভোরে ঘুম ভাঙছে এ এলাকার মানুষের।
 
নওগাঁ শহরের লিটন ব্রিজের পাশে অবস্থিত মহান স্বাধীনতা ভাস্কর্য। এ ভাস্কর্যের পাশে ৭টি আম গাছ, একটি কাঁঠাল গাছ এবং রাস্তার বিপরীত পাশে একটি মাঝারি পাইকর গাছসহ ৯টি গাছ রয়েছে। গত দুমাস থেকে এ সব গাছে আশ্রয় নিয়েছে চড়ুই পাখি। এখন এ স্থানটি ‘পাখি বাড়ি’ নামে পরিচিত। পাখি বাড়ি যেন পাখিদের নিরাপদ অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে উঠেছে। 
 
IMG0
 
প্রতিদিন বিকেলে ও ভোরে গাছে গাছে পাখির কিচির-মিচির শব্দে জানিয়ে দেয় তাদের সরব উপস্থিতি। এদের সংখ্যা প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজারের মতো হবে। চারপাশের গাছগুলো দখলে নিয়েছে। 
 
বিকেল থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত থাকার পর তারা খাবারের জন্য বেরিয়ে পরে। আবারও ফিরে আসে বিকেলে। যখন ফিরে আসে তখন তাদের কিচির মিচিরে মুখরিত হয়ে উঠে চারিদিক। পাখিদের কিচির-মিচির শোনার জন্য এবং রাতে গাছের ডালে লেপ্টে থাকা পাখিদের ঘুমিয়ে থাকার মনোরম দৃশ্য দেখার জন্য স্থানীয়রা ভিড় জমান। 
 
IMG1
 
পাখি বাড়ি গাছের নিচে পান ও বিড়ি দোকানদার রেজা জানান, বছরের এ সময়ে এসব চড়ুই পাখি এসে মাস তিনেক থাকে। কিছুদিনের মধ্যে হয়তো পাখিগুলো আবার চলে যাবে। গত পাঁচ বছর থেকে দেখে আসছেন চড়ুই পাখিদের আসা-যাওয়া। 
 
ফলের দোকানদার আব্দুল বারিক ও কাশেম আলী জানান, হঠাৎ করেই এসব পাখিদের আগমন ঘটেছে। ঝাঁক বেঁধে পাখিদের উড়ার দৃশ্য দেখতে এবং প্রতিদিন বিকেল ও ভোরে কিচির মিচির শব্দ শোনতে ভাল লাগে। 
 
জেলা প্রশাসক ড. আমিনুর রহমান জানান, পাখিদের সেখান থেকে তাড়ানো যাবে না। পাখিদের যেন কোন ক্ষতি না হয় সেটাও দেখতে হবে এবং স্থানীয়দের কোন সমস্যা না হয়ে সে বিষয়টিও বিবেচনা করে দেখতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  
 
 
ইত্তেফাক/ইউবি