একক ক্যাম্পাসে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ২৩:৪৮
অখণ্ড জমির মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করতে শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অনির্ধারিত আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদকে এই নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবগণসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
 
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভা বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেরানীগঞ্জে ছাত্রদের জন্য আবাসিক হল হবে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ২৫ বিঘা জমি আছে। আর ছাত্রী হোস্টেল হবে বর্তমান ক্যাম্পাসের পাশেই। বর্তমান ক্যাম্পাসের মধ্যে ২০ তলা প্রাশাসনিক ভবন নির্মিত হচ্ছে।
 
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক জায়গায় একাডেমিক ভবন, অন্য জায়গায় আবাসিক হল। এটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থা হতে পারে না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ীভাবে পরিচালনার জন্য একটি পরিপূর্ণ পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই জায়গায় একাডেমিক ভবন ও হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণে উদ্যোগ নিতে শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।
 
মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম বলেন, বকশিবাজারে অবস্থিত সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় পূর্ব নির্ধারিত জাদুঘর, বিনোদন কেন্দ্র বা পার্ক, শপিং মল, কনফারেন্স রুম নির্মাণ করা হবে। এ জমি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা হবে না বলে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে।
 
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পুরনো জেলখানা বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্য। এখানে বঙ্গবন্ধু বন্দী ছিলেন, সেখানে চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করা হয়। কাজেই এ বিষয়গুলো বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এই ইতিহাস সংরক্ষণে এখানে জাদুঘরসহ একটি কনফারেন্স রুম, বিপণী বিতান, পার্ক হবে। জমি এসব কাজে ব্যবহার করা হবে, অন্য কোনো কাজে নয়।
 
শিক্ষামন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন
 
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানাতে গতকাল বিকালে মন্ত্রণালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। যদিও সবার জন্য আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তবে বেশিরভাগ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য ব্যবস্থা করা হবে।
 
মন্ত্রী বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কেরানীগঞ্জে ইতোমধ্যে ২৫ বিঘা জমি কেনা হয়েছে। প্রয়োজনে আরো জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তবে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান ক্যাম্পাসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলবে। তিনি জানান, কেরানীগঞ্জের স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুত্ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সঙ্গে জায়গা নিয়ে কথা হয়েছে। দুই/এক দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জমি অধিগ্রহণে যাবেন তারা।
 
বিশ্ববিদ্যালয় স্থানান্তর হলে জগন্নাথের বর্তমান অবকাঠামোসহ এই জায়গার কী হবে- এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যখন নতুন জায়গায় সম্পূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ হয়ে যাবে তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিবে এখানে তারা কি করবে। কারণ এটা তাদের নিজস্ব জায়গা।
 
সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে
 
‘আলাপন’ নামে অ্যাপ উদ্বোধন
 
দেশে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে আন্তঃযোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে তাদের জন্য ‘আলাপন’ নামে ‘ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত মন্ত্রিসভা বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশালের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আলাপন’ নামের এই অ্যাপের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
 
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানান, এই অ্যাপটি হচ্ছে জনপ্রিয় অ্যাপ ভাইবারের মত এবং এই অ্যাপ ব্যবহারে কোনো ফি বা চার্জ লাগবে না। এটি বিশ্বস্ত ও নিরাপদ।
 
শফিউল আলম জানান, সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তথ্য ও যোগাযোগ বিভাগ ১৪ লাখ কর্মকর্তার জন্য এই অ্যাপ তৈরি করেছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হবার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের কাজ শুরু হয়।
 
তিনি বলেন, প্রযুক্তিভিত্তিক একটি আধুনিক ডিজিটাল দেশ হিসাবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। অ্যাপটি ইতোমধ্যেই আইওএস ও গুগল প্লে-স্টোরে অবমুক্ত করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও পে-স্কেলে ব্যবহূত মোবাইল নম্বর দিয়ে বিনামূল্যে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন।
 
তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করতে পারবেন এবং গ্রুপ ভিত্তিক আলোচনা (চ্যাট ও গ্রুপ চ্যাট) এবং গ্রুপ কনফারেন্স, আলাপ আলোচনা, বার্তা প্রেরণ ও সরকারি ফাইল আদান-প্রদান করতে পারবেন। এছাড়া এর মাধ্যমে তাদের অবস্থানও জানা যাবে। তিনি বলেন, এই অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাডভান্সড সার্চ অপশনে গিয়ে যে কোনো মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে সব ধরনের যোগাযোগ করা যাবে।
 

সচিব জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের আন্তঃযোগাযোগের নিরাপত্তায় কেউ যাতে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য এই অ্যাপে সকল ধরনের আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের অন্যান্য অ্যাপের চেয়ে ‘আলাপনে’ কম ব্যান্ডউইথ, কম চার্জ ও কম স্পেসের প্রয়োজন হবে। এসব সুবিধার কারণে আন্তঃযোগাযোগের ক্ষেত্রে ‘আলাপনকে’ বৈপ্লবিক পরিবর্তন বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।