ভূঞাপুরে দেশের অন্যতম বৃহত্ গোবিন্দাসী গরুর হাটের খাজনা দিন দিন বেড়েই চলছে। মামলা জটিলতায় হাট ইজারার জন্য ঠিকাদার নিয়োগ না হওয়ায় প্রতি হাট পৃথকভাবে ইজারা প্রদান করে আসছে উপজেলা প্রশাসন। ফলে প্রতি হাটে ইজারা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গরু প্রতি খাজনা আদায়ও বেশি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। যার ফলে পুরাতন এই গরুর হাট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় গোবিন্দাসী গরুর হাট খাস টোল আদায়ের (সিলমোহর করা) রশিদ দিয়ে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। ইউএনও অফিস ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী গরুর হাটে খাজনা আদায়ে নিয়োজিত রয়েছেন। এতে গরু প্রতি খাজনা আদায় করা হচ্ছে সাতশ ৫০ টাকা। পুরো হাটে প্রতি টেবিলে প্রশাসনের দুইজন করে মোট ছয়টি কাউন্টারের মাধ্যমে ৭৫০ টাকার বিনিময়ে খাজনার রশিদ দেয়া হচ্ছে। তবে গত বৃহস্পতিবার এই হাটে গরু প্রতি খাজনা নেয়া হয়েছিল ছয়শ টাকা।
ভূমি অফিসের কর্মচারী খাজনা আদায়ে নিয়োজিত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ইউএনও স্যারের নির্দেশ, তাই অফিস বাদ দিয়েই হাটে আসতে হয়েছে। সম্ভবত ইজারাদার নিয়োগ করা হয়নি তাই আমাদের দিয়ে খাজনা আদায় করা হচ্ছে। তবে একই টেবিলের আরেকজন জানান, হাট ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে ইজারা দেয়া হয়েছে। ইজারাদার প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তাই আমাদের নির্দেশ পালন করতে হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল জানান, হাটকে কেন্দ্র করে যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে তা ভাঙতে সর্বোচ্চ দরদাতাকে হাট ইজারা দেয়া হয়েছে।
খাজনা বেশি আদায়ের বিষয়ে তিনি জানান, সরকার নির্ধারিত ৬% হারে খাজনা আদায়ের নিয়ম আছে। কিন্তু সেখানে হাটের স্বার্থে গরু প্রতি ৭৫০ টাকা খাজনা আদায় করা হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এএন
