মুক্তিপণের টাকাসহ অপহরণকারী চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ২২:১৭
৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় মাহবুব নামে বাংলাদেশি এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
চক্রটি অপহৃত ব্যবসায়ীর পরিবারকে বাংলাদেশ থেকে ৭০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হুমকি দেয়। এ সময় র‌্যাবের সদস্যরা ৩০ লাখ টাকাসহ অপহরণকারী চক্রের দুই নারী সদস্যসহ চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
 
গত রবিবার মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইমহাটি এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মির্জাপুর উপজেলার থলপাড়া গ্রামের মজিবুর মিয়ার ছেলে মো. কামাল মিয়া (৫৫) ও তার স্ত্রী এবং বাইমহাটি গ্রামের খবির উদ্দিনের ছেলে মো. জিয়াউল হক জিয়া (৩০) ও তার বড় ভাই শহিদুল হকের স্ত্রী।
 
জানা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় অপহৃত মাহবুব হোসেনের পিতার নাম মো. শুকুর আলী। বাড়ি নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্দিরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ আজিবপুর গ্রামে। মামলার বাদী মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, অপহৃত মাহবুর দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসা করে আসছে।গত ২৬ আগস্ট ব্যবসা কেন্দ্র থেকে বাসায় ফেরার সময় দুর্বৃত্তদের হাতে তিনি অপহৃত হন। তাকে অপহণের পর দুর্বৃত্তরা দক্ষিণ আফ্রিকায় জঙ্গলের ভিতর নিয়ে ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আর এই মুক্তিপণের টাকা বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া গ্রামের কামাল মিয়া ও তার সহযোগিদের কাছে মাহবুবের পরিবারকে পরিশোধ করতে বলা হয়।
 
পরে মাহবুব বুঝতে পারে এই অপহরণের মূলহোতা হচ্ছে মির্জাপুর উপজেলার থলপাড়া গ্রামের কামাল মিয়ার ছেলে ঝড় মিয়া (৩০) এবং তার বন্ধু জাহিদ হোসেনসহ (৩৬) ৬-৭ জন। অপহরণকারীদের কথামত এই ঘটনা মাহবুব মোবাইলে বাংলাদেশের গ্রামের বাড়িতে জানান।ফোন পেয়ে ছেলেকে বাঁচাতে মাহবুবের পরিবার ঘরবাড়ি ও জমি বিক্রি করে ৩০ লাখ টাকা যোগার করে। বাকি ৪০ লাখ টাকা কয়েক দিন পরে দিবে বলে মোবাইলে তাদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। মাহবুবের পরিবার এই ঘটনা র‌্যাবকে জানালে র‌্যাব সদস্যরা অপহরণকারী চক্রের সদস্যদের ধরতে ফাঁদ পাতে।
 
এদিকে গত রবিবার টাঙ্গাইলের র‌্যাব-১২ কোম্পানি কমান্ডার মো. মহিউদ্দিন ফারুকীসহ এক দল সাদা পোশাকধারী র‌্যাবের সদস্য ও অপহৃত মাহবুবের পরিবার ৩০ লাখ টাকা নিয়ে মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইমহাটি এলাকায় এসে অপহরণকারী দলের সদস্যদের মোবাইলে ফোন দেয়। তারা বাইমহাটি এলাকায় এক দোকানে বসা অবস্থায় ৩০ লাখ টাকা নিয়ে কামাল ও জিয়ার হাতে দিলে চার পাশে অবস্থানরত র‌্যাব সদস্যরা তাদের আটক করে।  পরে তাদের নামে হামলা হয়েছে।