লবণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চামড়ায় অস্থিরতার আশঙ্কা

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ২০:১৬
 
লবনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে আসন্ন কোরবানির ঈদে পশুর চামড়া সংরক্ষণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও এখনো অনেক ব্যবসায়ী লবন কেনেননি।
 
চামড়া ব্যবসায়ীরা বলেছেন, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে লবনের দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশী। বর্তমানে প্রতি বস্তা (৭৪ কেজি) অপরিশোধিত লবণ ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং পরিশোধিত লবণ প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত বছর এক বস্তা অপরিশোধত লবনের দাম ছিল ৬৫০ টাকা। সরকারের বিপনন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর হিসেবে এক বছরে পরিশোধিত লবনের দাম বেড়েছে ৫৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
 
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, লবনের দাম বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে অনেকেই চাহিদামতো লবণ ব্যবহার করবেন না। এতে চামড়া নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মান হারানোর আশঙ্কা করছেন তারা। এছাড়া লবনের বাড়তি দাম সমন্বয়ের জন্য চামড়ার দাম পড়ে যেতে পারে।
 
উল্লেখ্য, প্রতি বছর দেশে পরিশোধিত লবনের চাহিদা ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টন। এই পরিমাণ পরিশোধিত লবণ পেতে ১৮ থেকে ১৯ লাখ টন অপরিশোধিত লবণের দরকার হয়। বিসিকের দেয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমান লবণ মওসুমে ১৫ লাখ ৫৫ হাজার টন লবণ উত্পাদন হয়েছে। ফলে ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৩ লাখ টন।
 
সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত কোরবানির ঈদের মাসখানেক আগে থেকেই লবণ কেনা শুরু করেন চামড়ার আড়তদাররা। কিন্তু এবার দাম বেশী থাকায় অনেকেই চাহিদামতো লবন কেনেননি।
 
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ‌্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, লবণের দাম বাড়ায় চামড়ার দামে এর বিরুপ প্রভাব পড়বে। কারণ লবনের বাড়তি দাম সমন্বয় করতে কম দামে চামড়া কিনবেন তারা। কারণ, ‘কস্টিং’ ঠিক রাখতে হবে। তিনি বলেন, লবনের দাম বাড়ায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়ায় লবণ কম দেবে। এতে চামড়া নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।
 
ইত্তেফাক/এএম।