স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে সেই ঘটনার বর্ণনা দিলেন জজ মিয়া

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ২১:৪০
সেই আলোচিত জজ মিয়া একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানোর কাহিনী বর্ণনা করলো স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের কাছে। বুধবার সকালে জজ মিয়া স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে তার ধানমন্ডিস্থ বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাত্ করে। 
 
পরে তাকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত্কালে জজ মিয়া সেই সময়ের ঘটনা তুলে ধরে বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার সময় তিনি নোয়াখালীর সেনবাগের গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। ওই দিন সন্ধ্যায় গ্রামের একটি চায়ের দোকানের টেলিভিশনে গ্রেনেড হামলার খবর দেখতে পান। তিনি রাজধানীর নাখালপাড়া এলাকায় থাকতেন আর গুলিস্তানে সিডির ব্যবসা করতেন। গ্রেনেড হামলার পর তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার জন্য তিনি আবার গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান। ওষুধ কেনার জন্য বাজারে যাওয়ার পথে গ্রামের মোকছেদ চৌকিদারের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। 
 
মোকছেদ চৌকিদার তাঁকে বলেন, ‘তুমি চোরাচালানির ব্যবসা করো। তোমার নামে ওয়ারেন্ট আছে। তোমাকে থানায় যেতে হবে।’ এরপর মোকছেদ চৌকিদারের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলে করে সেনবাগ থানায় যান জজ মিয়া। তিনি সেখানে গিয়ে দেখতে পান ঢাকা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থা (সিআইডি) থেকে লোক এসেছেন। তাঁরা জজ মিয়াকে ঢাকার মালিবাগের কার্যালয়ে নিয়ে যান। মালিবাগে সিআইডির কার্যালয়ে এনে তাঁকে সাজানো জবানবন্দি দিতে বলা হয়। অন্যথায়, তাঁকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে এবং তাঁর পরিবারকে মেরে ফেরার হুমকি দেওয়া হয়। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবন বাঁচাতে সাজানো সাক্ষ্য দিতে রাজি হন। সিআইডি অফিসে একটি কাগজে জবানবন্দি লিখে দেওয়া হয়। তা মুখস্থ করতে বলা হয়। 
 
জবানবন্দি মুখস্থ করে দৈনিক তিনবার সিআইডি কর্মকর্তাদের কাছে বলতে হতো। বর্তমানে শারিরীকভাবে নিজের অসুস্থতার কথাও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে জজ মিয়া। সাক্ষত্কালে নিজের আর্থিক অভাব-অনটনের কথা তুলে ধরে একটি চাকরি দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানায় ৩৫ বছরের এই যুবক। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার কথা মনোযোগ সহকারে শোনের এবং চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। ইত্তেফাক/এএম।