লবণের মূল্যবৃদ্ধিতে চামড়ায় অস্থিরতার আশঙ্কা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০০:২৬
লবণের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে আসন্ন কোরবানির ঈদে পশুর চামড়া সংরক্ষণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। ঈদের মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও এখনো অনেক ব্যবসায়ী লবণ কেনেননি।
 
চামড়া ব্যবসায়ীরা বলেছেন, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে লবণের দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। বর্তমানে প্রতি বস্তা (৭৪ কেজি) অপরিশোধিত লবণ ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং পরিশোধিত লবণ প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত বছর এক বস্তা অপরিশোধিত লবণের দাম ছিল ৬৫০ টাকা। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর হিসেবে এক বছরে পরিশোধিত লবণের দাম বেড়েছে ৫৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে অনেকেই চাহিদামতো লবণ ব্যবহার করবেন না। এতে চামড়া নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মান হারানোর আশঙ্কা করছেন তারা। এছাড়া লবণের বাড়তি দাম সমন্বয়ের জন্য চামড়ার দাম বেড়ে যেতে পারে।
 
প্রতি বছর দেশে পরিশোধিত লবণের চাহিদা ১৬ লাখ ৫৫ হাজার টন। এই পরিমাণ পরিশোধিত লবণ পেতে ১৮ থেকে ১৯ লাখ টন অপরিশোধিত লবণের দরকার হয়। বিসিকের তথ্যানুযায়ী, বর্তমান লবণ মৌসুমে ১৫ লাখ ৫৫ হাজার টন লবণ উত্পাদন হয়েছে। ফলে ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৩ লাখ টন। সাধারণত কোরবানির ঈদের মাসখানেক আগে থেকেই লবণ কেনা শুরু করেন চামড়ার আড়তদাররা। কিন্তু এবার দাম বেশি থাকায় অনেকেই চাহিদামতো লবণ কেনেননি।
 
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ?্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, লবণের দাম বাড়ায় চামড়ার দামে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। লবণের বাড়তি দাম সমন্বয় করতে কম দামে চামড়া কিনবেন তারা। কারণ, ‘কস্টিং’ ঠিক রাখতে হবে। তিনি বলেন, লবণের দাম বাড়ায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়ায় লবণ কম দেবেন। এতে চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকবে। কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, একটি মাঝারি আকারের গরুর চামড়ায় পাঁচ থেকে ছয় কেজি এবং বড় আকারের গরুর চামড়ায় আট থেকে ১০ কেজি লবণ দিতে হয়। ছাগলের চামড়ায় তিন থেকে চার কেজি এবং মহিষের চামড়ায় ১০ থেকে ১৫ কেজি লবণ লাগে। এ হিসেবে আগে একটি বড় চামড়া সংরক্ষণে লবণ বাবদ যেখানে ৮৭ টাকা ব্যয় হত, সেখানে বর্তমান বাজার দরে লাগবে প্রায় ১৭৫ টাকা। দেশে প্রতি বছর মোট চাহিদার ৫০ শতাংশ চামড়া কোরবানির ঈদে সংগ্রহ করা হয়। ৩৫ লাখ থেকে ৪০ লাখ চামড়া আসে আড়তে। ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আবু তাহের বলেন, চামড়া সংরক্ষণের একমাত্র উপকরণ লবণ। গত এক বছরে অপরিশোধিত লবণের দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এর বিরূপ প্রভাব পড়বে চামড়া সংরক্ষণে।
 
লবণের দামে লাগাম টানতে দেড় লাখ টন লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত সোমবার সচিবালয়ে চামড়া ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে বৈঠকশেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেড় লাখ টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চামড়া সংরক্ষণে লবণের অভাব হবে না। এছাড়া লবণের দামও কমে আসবে।
 
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এই দেড় লাখ টন ছাড়াও আরো এক লাখ টন লবণ আমদানির এলসি খোলা হতে পারে। ফলে কোরবানির আগেই লবণের দাম কমে যাবে।
 
অপরিশোধিত লবণের পাশাপাশি পরিশোধিত লবণের দামও বাড়ছে অস্বাভাবিকভাবে। লবণের মিলগুলো তাদের প্যাকেটজাত লবণের দাম বাড়িয়েছে। গত সপ্তাহে এসিআই কোম্পানি এক পত্রে ট্যারিফ কমিশনকে জানিয়েছে, দেশে অপরিশোধিত লবণের দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় আগের খুচরা মূল্যে লবণ বিক্রি সম্ভব হচ্ছে না। তাই তারা ‘এসিআই পিওর’ লবণের কেজি ৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪২ টাকা করতে বাধ্য হয়েছে। সুপার ক্রিস্টাল সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজও অনুরূপভাবে তাদের লবণের কেজি ৪২ টাকা নির্ধারণ করে তা ট্যারিফ কমিশনকে জানিয়েছে। কনফিডেন্স সল্ট ট্যারিফ কমিশনকে জানিয়েছে, তারা ৪০ টাকা কেজি দরে লবণ বিক্রি করবে। এর আগে এ কোম্পানির প্রতি কেজি লবণের দাম ছিল ৩৮ টাকা। একইভাবে পূবালী সল্ট তাদের ভ্যাকুয়াম ইভাপোরেট পদ্ধতিতে পরিশোধন করা লবণের দাম এক লাফে ৩৫ থেকে বাড়িয়ে ৪৫ টাকা করার প্রস্তাব করেছে।
 
 

ইত্তেফাক/এএন