যদি গোলের কোনো সুযোগই না পেত তা হলে একটা কথা ছিল। গোলের অসংখ্য সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে না পারার কারণটাই কেউ বুঝতে পারছে না। দলের বেলজিয়ান কোচ টম সেইন্টফিট এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না ৯০ মিনিটে দশ বারোটা সুযোগ পেয়েও গোল হয়নি। ক্ষুব্ধ ফেডারেশন সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন। বলছিলেন, ‘দাঁত কামড়ানো ছাড়া কিছু করতে পারছিলাম না।’
কিন্তু কেন স্ট্রাইকাররা ব্যর্থ হচ্ছে? এমন প্রশ্নে বাফুফে সভাপতি বললেন, ‘মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ের অভাব। প্র্যাকটিস করে না। পথ একটাই প্র্যাকটিস, প্র্যাকটিস, প্র্যাকটিস এবং প্র্যাকটিস। এছাড়া কোনো বিকল্প পথ নেই। কোচ এসে শেখাবেন সেই আশায় থাকব। কোচের প্র্যাকটিস শেষ হয়ে গেলে আমারও প্র্যাকটিস শেষ। এভাবে ভালো খেলোয়াড় হওয়া যায় না।’
ফুটবল ক্যারিয়ারে নিজের ঘটনা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ফুটবল ক্যারিয়ারে আমরা কোচের প্র্যাকটিসের পর নিজেরা কয়েকজন আরো কয়েক ঘণ্টা অনুশীলন করতাম। নিজেদের স্বার্থেই এটা করতাম।’
ভুটানের বিপক্ষে স্ট্রাইকার রনি, জীবন, মেহেদী হাসান তপু, সোহেল রানা গোলের পর গোল মিস করেছেন। স্ট্রাইকাররা জালে বল রাখতে পারেননি। ক্লাব ফুটবলেও তাদের অবস্থান খুবই খারাপ। সেখানেও গোল খরায় ভুগছেন এই সব স্ট্রাইকার। আর এর জন্য টম সেইন্টফিট দায়ী করেছেন ক্লাব ফুটবলের অতিমাত্রায় আফ্রিকান ফুটবলারদের অবস্থান। ক্লাব ফুটবলের আক্রমণভাগ আফ্রিকান ফুটবলারদের দখলে। যে কারণে দেশি ফুটবলাররা জায়গা পাচ্ছেন না। এটা নিয়ে সেইন্টফিট কথা বলেছেন বাফুফের সভাপতির সঙ্গে। ক্লাব ফুটবলে বিদেশি খেলোয়াড় আমদানির অনুমতি রয়েছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করে কোন দেশ থেকে খেলোয়াড় আনবে। কোন পজিশনের খেলোয়াড় আনবে। সব ক্লাবই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় পছন্দ করে। স্ট্রাইকার নিয়ে আসে। দলের মধ্যে দেশের এক নম্বর, দুই নম্বর স্ট্রাইকার থাকার পরও বিদেশি স্ট্রাইকার আমদানি করা হয়। ক্লাব কর্মকর্তারাও দেশি স্ট্রাইকারদের ওপরও আস্থা রাখে না। মানহীন বিদেশি স্ট্রাইকার খেললেও দেশিরাও তাদের ছাড়িয়ে যেতে পারছে না।
আর সেই প্রভাব গিয়ে পড়ছে জাতীয় দলে। গোল পাচ্ছেন না স্ট্রাইকাররা। সালাহউদ্দিনের কথা হচ্ছে খেলতে হলে তোমাকে জায়গা করে নিতে হবে। কেউ জায়গা ছেড়ে দেয় না। কোচ যাকে ভালো পাবে তাকেই তো নামাবে। কোচ কখনো অন্যকে বসিয়ে তোমাকে নামাবে না। তুমি বুঝিয়ে দাও তোমার যোগ্যতা আছে।
ম্যাচ নিয়ে গতকালও বিশ্লেষণ চলছিল বাফুফেতে। কোচ টম সেইন্টফিট জানালেন তিনি আক্রমণভাগে জীবন এবং হেমন্তকে ওয়ার্মআপ করাচ্ছিলেন। কোচিং স্টাফের সঙ্গে আলোচনা করে হেমন্তকে বাদ দিয়ে জীবনকে নামিয়েছেন। কোচ বললেন, ‘হয়তো হেমন্তকে নামালে গোল পেয়ে যেতাম। হয়তো পেতাম না। আমাকে তো একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
ইত্তেফাক/এমএইচ
