এবার ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের কাছে ঘরে ফেরা মানে অন্তহীন দুর্ভোগ। কোন হিসাব নিকাশ, কোন কাজে আসেনি। সকালে যে বাস ছাড়ার কথা ছিল, তা ছাড়তে হচ্ছে রাতে। আর রাতেরটা ছাড়াতে হচ্ছে সকালে। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি পরিবহন সংশ্লিষ্টদের শুনতে হচ্ছে মানুষের (যাত্রীদের) নানা কথা।
গাবতলী টার্মিনালের একটি নামি পরিবহনের জেনারেল ম্যানেজার শনিবার এভাবেই তিনি তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। মহাসড়কের যানজটের জন্য তিনি দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টদের অব্যবস্থাকে। তিনি বলেন, যেভাবে মহাসড়কের যানবাহনের চলাচলের প্রস্তুতি নেয়া কথা ছিল তা এবার হয়নি। বলা হয়েছিল মহাসড়কের পাশে পশুরহাট বসানো যাবেনা। কিন্তু এর কোনটারই বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে গোটা দেশের মহাসড়ক স্থবির হয়ে পড়ার কথা নয়।
এ দিকে শনিবার থেকে রাজধানীর কমলাপুরে ও সদরঘাটে যাত্রীর চাপ কিছুটা কমেছে। ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ের তেমন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
ভোগান্তিতে পড়া দিনাজপুর রুটের যাত্রী সাইদুর রহমান জানান, তার বাস ছাড়ার কথা ছিল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায়। সেই বাস ছাড়তে ছাড়তে বিকেল ৪টা। বাস ছাড়ার আট ঘণ্টা পরও রাত ১২টা নাগাদ তিনি ছিলেন গাজীপুরের চন্দ্রায়।
আল হামরা পরিবহনের যাত্রী গাইবান্ধার শফিউর রহমান জানান, ঈদের মজা টুটে গেছে। এখন এমন অবস্থা যেন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি। তিনি বলেন, বিকেল ৩টার বাস ছেড়েছে রাত ১২টায়। সকাল অব্দি আমি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হতে পারিনি। ১৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে, কিছু করার নেই।
শ্যামলী পরিবহনের কর্মকর্তা আশরাফ আলী জানান, টিকিট বিক্রির সময়ই আমরা যাত্রীদের সম্ভাব্য শিডিউল বিপর্যয়ের কথা জানিয়েছি। বিড়ম্বনার কথা চিন্তা করেই রিজার্ভ কয়েকটি বাসের ব্যবস্থা রেখেছি। রিজার্ভের সব বাস ছেড়েছে। কিন্তু কোনোটাই গন্তব্যে পৌঁছেনি। সবই আটকে আছে টাঙ্গাইলে।
হানিফ পরিবহনের জিএম মোশারেফ হুসেইন জানান, রাস্তায় গাড়ির গতি ধীর হওয়ায় সময়মত সব বাস ছাড়া যাচ্ছে না। বাস ছাড়ার দরকার ছাড়ছি। কিন্তু রাস্তায় যদি আটকে থাকে তবে বাস আসবেইবা কেমনে যাবেইবা কেমনে! কিছুই করার নেই। যাত্রীদের ভোগান্তি আরো বাড়ছে।
