জিতলেন গার্দিওলাই

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০৮:৩১
খেলার ৩৫ মিনিট। কেলেচি ইহিয়ানাচোর শটটা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দু’হাত উপরে ছুঁড়লেন পেপ গার্দিওলা। বিড়বিড় করে ঠোঁট দু’টো ক্ষাণিকটা নাড়লেন। যেন বলতে চাইলেন:এবার কী করবে হোসে?
 
ম্যানচেস্টার সিটি ততক্ষণে এগিয়ে গেছে দুই গোলে। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রেড ডেভিলদের ছাপিয়ে বাজছে সিটিজেনদের উল্লাস ধ্বনি। হোসে মরিনহোর মনে হয়তো উঁকি দিচ্ছিল গার্দিওলার সঙ্গে তার স্প্যানিশ অধ্যায়টার কথা। লা লিগায় স্প্যানিশ কোচের বার্সেলোনার সঙ্গে নিজের প্রথম খেলায় ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল ‘স্বঘোষিত স্পেশাল’ ওয়ানের রিয়াল মাদ্রিদ। খেলার পর সেই বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন গার্দিওলা: ‘আমি গর্বিত। পুরো বিশ্ব দেখলো আমরা কীভাবে ফুটবল খেলি।’
 
না, গতকাল শনিবার বিধ্বস্ত হয়নি মরিনহোর ইউনাইটেড। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে রেড ডেভিলসরা হেরেছে ২-১ গোলে। কিন্তু ম্যান ইউ কোচকে এই ম্যাচের পর ভাবতে হবে অনেক কিছু। ইংলিশ অধ্যায়েও নিশ্চয়ই গার্দিওলার ঠোঁটে বিজয়ীর গর্বিত হাসি দেখতে চান না পর্তুগীজ কোচ।
 
সার্জিও অ্যাগুয়োর অনুপস্থিতি কিংবা ইউনাইটেডের নিজের মাঠ- সব মিলিয়ে ভাবা হয়েছিল মৌসুমের প্রথম ম্যানচেস্টার ডার্বিতে আধিপত্য দেখাবে মরিনহোর ইউনাইটেডই। কিন্তু কোথায় কী? খেলার প্রথম ৪০ মিনিট তো সিটির বক্সের মধ্যে একবারও বলে ছোঁয়া লাগাতে পারলো না ওয়েন রুনি, জাণ্ডতান ইব্রাহিমোভিচ আর পল পগবারা!
 
শুরু থেকেই রেড ডেভিলদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে গার্দিওলার শিষ্যরা। খেলার ১৪ মিনিটে ইহিয়ানাচোর ফ্লিকে বল পান কেভিন ডি ব্রুইন। ১৮ গজ দূর থেকে নেওয়া নিচু শটে বল জালে জড়িয়ে আকাশী-নীলদের উল্লাসে ভাসান বেলজিয়ান তারকা। ২১ মিনিট পর ইউনাইটেডের জালে দ্বিতীয় গোল। এবারের ঘাতক ইহিয়ানাচো নিজে। ডি ব্রুইনের দুর্দান্ত শটটি ডেভিড ডি গিয়াকে ফাঁকি দিয়ে পোস্টে লেগে ফিরে আসার পর ফাঁকায় বল পেয়ে যান ১৯ বছর বয়সী নাইজেরিয়ান। সহজ গোলটি করতে কোনো ভুল করেননি তিনি।
 
মরিনহোর দল খেলায় ফিরে আসে সিটির হয়ে অভিষিক্ত ক্লদিয়ো ব্রাভোর শিশুতোষ ভুলে। ৪২ মিনিটে ফ্রি-কিক ঠেকাতে কিছুটা বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন বার্সা থেকে ইত্তেহাদে আসা চিলিয়ান গোলরক্ষক। কিন্তু বলটাকে তো ধরতেই পারলেন না, বরং সেটি গিয়ে পড়লো ওত পেতে থাকা ইব্রাহিমোভিচের সামনে। দুর্দান্ত শটে ইউনাইটেডকে খেলায় ফেরান সুইডিশ তরাকা।
 
দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের ছন্দটা খুঁজে পায় ইউনাইটেড। একটি বল তো সিটির জালে ঢুকিয়ে ফেলেছিলেন বদলি হিসেবে নামা তরুণ মার্কাস র্যাশফোর্ড। কিন্তু দুর্ভাগ্য স্বাগতিকদের। অফ-সাইডে দাঁড়িয়ে ছিলেন ইব্রাহিমোভিচ। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আকাশী-নীলরা।
 
পুরো খেলায় সিটিজেন ভক্তরা একটু হতাশ হবেন ব্রাভোর পারফরম্যান্স দেখে। তাদের হয়তো বার বার মনে পড়ে গেছে জো হার্টের কথা। তার ভুলগুলোতে ভাগ্য সহায় না হলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত মরিনহোর ইউনাইটেড! পুরো খেলায়ই যেন আত্মবিশ্বাস হারা ছিলেন সিটি গোল রক্ষক। ইব্রার বল পেয়ে যাওয়া কিংবা দ্বিতীয়ার্ধে রুনির সামনে বল ঠেলে দেয়া- তার মতো একজন গোল রক্ষকের জন্য এমন শিশুতোষ ভুলগুলো বড়ই বেমানান।
 
 মৌসুম কেবল শুরু হলো। ম্যান ইউকে হারিয়ে চার খেলায় জয় নিয়ে গার্দিওলার সিটির পয়েন্ট ১২। অন্যদিকে প্রথম তিন খেলায় জয়ের পর এই পরাজয়ে লিগে প্রথমবারের মতো পয়েন্ট হারাতে হলো মরিনহোকে।
 
শিরোপা এখনও অনেক দূরের পথ। শিরোপা নির্ধারণে এই ম্যাচের প্রভাব কতটা থাকবে সেটা সময়ই বলে দিবে। কিন্তু নিঃসন্দেহে বলা যায়, ইংল্যান্ডে আগামী দিনের গার্দিওলা-মরিনহো দ্বৈরথে বড় ভূমিকা রাখবে তাদের প্রথম ম্যানচেস্টার ডার্বির ফল। বিবিসি
 
ই্ত্তেফাক/এমএইচ