'শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ গুণগত মান বৃদ্ধি'

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৯:৩২
শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ- শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, 'সেটি উপলব্ধি করেই নানা পরিকল্পনা ও কর্মসূচি নিয়ে এগুচ্ছি।'
 
ঐতিহাসিক 'শিক্ষা দিবসের' ৫৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
 
বিবৃতিতে বলেন, 'আজ থেকে ৫৪ বছর পূর্বে ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানে শাসকগোষ্ঠীর প্রতিভূ সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের চাপিয়ে দেয়া গণবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল তথাকথিত 'জাতীয় শিক্ষানীতি' বাতিল করে গণমুখী, বিজ্ঞানমনস্ক ও অসাম্প্রদায়িক শিক্ষা ব্যবস্থার দাবিতে ছাত্রসমাজ অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে বাবুল, ওয়াজিউল্লাহ, মোস্তফাসহ কয়েকজন শহীদ হন।'
 
শিক্ষা দিবসের তাৎপর্য উপলব্ধি করে, শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে সরকারের কার্যক্রম প্রতিদিন প্রসারিত হচ্ছে উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, 'আমরা শিক্ষার মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি আমাদের জাতীয় লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করে ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে আমাদের নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করে তোলা।'
 
জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের পথে বাংলাদেশ অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে, যা ইতোমধ্যে দৃশ্যমান এবং স্বীকৃত বলে অভিমত প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, 'চরম দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অভাব, দুর্ভিক্ষ বর্তমানে অতীত।' নতুন প্রজন্মকে আধুনিক উন্নত বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষার মুল লক্ষ্য উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'প্রায় সকল শিশুকে স্কুলে নিয়ে আসা এবং মাধ্যমিক পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীর সমতা অর্জন, নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে ১৮৯ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার ৮৯৫টি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য ব্রেইল পাঠ্যপুস্তক, যুগোপযোগী পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন করা হয়েছে।'
 
এছাড়াও ১০ লাখ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার শিক্ষা সকল স্তরে বাধ্যতামূলকভাবে চালু, প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস চালু, সৃজনশীল পদ্ধতি প্রবর্তন, ২০ হাজার কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, উপজেলায় আইসিটি রিসোর্স সেন্টার স্থাপন, মেধাবৃত্তি ছাড়াও বছরে ১ কোটি ২৮ লাখ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান, ৬০ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে প্রতিবন্ধী বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে বলে তিনি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।
 
ইত্তেফাক/এসএস