ধানীখোলা-ঝাইয়ারপাড় রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০০:৫৩
ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা ইউনিয়নের রাস্তাঘাট এতটাই নাজুক ও চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, যে বিভিন্ন ফিসারি প্রজেক্ট এলাকায় যানবাহন চলাচল করতে না পারায় মত্স্য চাষিদের চরম ভোগান্তি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অপর দিকে রাস্তাঘাট দিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তি হচ্ছে।
 
ভাওয়ালীয়াপাড়া হয়ে ঝাইয়ারপাড় সিনিয়র মাদ্রাসা পর্যন্ত ৫০০১নং রোডটি একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তাটির ২ কিলোমিটার এলাকার দুই পাশে শত শত মত্স্য প্রজেক্ট। মত্স্য চাষিদের মাছের খাবার সরবরাহ ও মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো যানবাহন এই রোড দিয়ে চলাচল করতে পারে না। এর ফলে মাছ চাষিদের অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। একাধিক মত্স্য চাষি জানান— তারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে প্রজেক্ট চালু করেছেন। রাস্তা ভেঙে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় তারা কতটা লাভবান হতে পারবেন, সেটা নিয়ে ভাবছেন। অপর দিকে, এই রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন ঝাইয়ারপাড় সিনিয়র মাদ্রাসাসহ আরো ২টি প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীর যাতায়াত করতে হয়। রাস্তাটি ভেঙে এমন দশা হয়েছে যে, শিক্ষার্থীদের হেঁটে যাতায়াত করতে কষ্ট ।
 
স্থানীয় আব্দুল হক বলেন, ‘রাস্তা ভাঙার কারণে স্থানীয়দের যাতায়াতে সমস্যা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কবে এ সমস্যা দূর হবে কেউ জানে না।’
 
হারুন অর রশীদ বলেন, ‘এ অঞ্চলের মাছ চাষিদের পরিশ্রমের ফসল সারা দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করছে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাস্তাটি পাকা করে দুর্ভোগ লাগব করা উচিত।’ ধানীখোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র মো. মনোয়ার হোসেন জানায়— রাস্তাটি ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় স্কুলে যেতে সমস্যা হচ্ছে। প্রায় ২-৩ কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যেতে দেরি হয়। একটু বৃষ্টি হলেই আমরা স্কুলে যেতে পারি না।’
 
স্থানীয় মত্স্য চাষি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, ‘২০১৪ সালে রাস্তাটিতে বিটুমিন কার্পেটিং হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কার্পেটিং না করে নিম্নমানের ইট দিয়ে সোলিং করা হয়েছিল। ফলে এক বছর যেতে না যেতেই রাস্তাটি ভেঙ্গে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।’ ধানীখোলা ঝাইয়ারপাড় সিনিয়র মাদ্রাসার প্রভাষক আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তাটির কারণে আমরা শিক্ষকসহ শত শত শিক্ষার্থী অত্যন্ত ভোগান্তিতে রয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য দাবি জানাই।’ এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত না থাকায় রাস্তাটি সংস্কার করা হচ্ছে না। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।’
 
ইত্তেফাক/এএন