আজ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহের ৪৫ তম জন্মবার্ষিকী। জনপ্রিয় এই নায়কের জন্মদিনে বিভিন্ন সংগঠন এবং সংবাদপত্র ও টেলিভিশন বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য আয়োজন করে থাকে সালমান শাহ স্মৃতি পরিষদ। এই সংগঠনটি সালমান শাহ’র জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী ২০০৩ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে পালন করে আসছে। সালমান শাহ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি এস এম শফি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় সালমান শাহ্র ৪৫তম জন্মবার্ষিকী ২০১৬. উত্যাপনের জন্য আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর, এফডিসি চত্বর ও জসিম ফ্লোরে দেশের সকল তারকা, পরিচালক, প্রযোজক, সাংবাদিক এবং বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে দিনব্যাপী ‘সালমান শাহ উত্সব ২০১৬’ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে সালমান শাহ স্মৃতি পরিষদ। এ আয়োজনে দৈনিক ইত্তেফাক থাকছে মিডিয়া পার্টনার হিসাবে।
সালমান ছিল প্রথম শ্রেণীর নায়ক এবং প্রথম শ্রেণীর মানুষ : মিশা সওদাগর
আমাদের আশেপাশে এখন অনেক নায়ক রয়েছে যাদের হয়তো সবাই তারকা হিসেবে গ্রহণ করে মানুষ হিসেবে তেমনটা নয়। আমার দেখা রাজ্জাক ভাইয়ের পর একমাত্র সালমানই ছিল উন্নত অভিনেতা, উন্নত নায়ক এবং উন্নত মানুষ। এই তিনটা গুন খুব মানুষেরই মধ্যেই পাওয়া যায়। ওর সবচেয়ে বড় গুন ছিল সব শ্রেণী পেশার মানুষকে মুগ্ধ করার ক্ষমতা। যার মৃত্যু শোক সইতে না পেরে প্রাণ দেয় ওর ১২জন ভক্ত। শুধুমাত্র অভিনয় দিয়ে অল্প সময়ে এরকম ভক্ত তৈরি করার ক্ষমতা কারও ছিল কিংবা আছে বলে আমার মনে হয় না। এটা এক অসাধারণ ক্ষমতা ওর। তার এভাবে চলে যাওয়া কখনোই মেনে নেয়ার নয়। ও বেঁচে থাকলে হয়তো আমাদের চলচ্চিত্রের যে পতন সেটা এতো তাড়াতাড়ি হতো না। ওর সাথে কাজ করেছি, কাজের সুবাধে দেখা হয়েছে অভিনয়ের বাইরের মানুষ হিসেবে। ‘আশা ভালোবাসা’ নামে ওর সঙ্গে একটা চলচ্চিত্রে আমি ভিলেন চরিত্রে কাজ করি। প্রথমদিনের শুটিং ও রাতের বেলায় ল্যাবে দেখে পরদিন আমাকে দেখে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে বলে ভাই এই ছবির পর আপনাকে আর থেমে থাকতে হবে না। সত্যি বলছি সেই কাজের পর আমি থেমে নেই জীবনের ৩০ বছর পার করতে চলেছি অভিনয় জগতে। কতোটা দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হলে এভাবে বলে দেয়া সম্ভব সেটা ভেবে আমি এখনো অবাক হই।
এ সময়ে সালমানের খুব প্রয়োজন ছিলো : সোহানুর রহমান সোহান
চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহান। তার হাত ধরেই চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে সালমান শাহ’র। তার পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে চলে আসেন সালমান শাহ- মৌসুমী জুটি। সালমান শাহকে নিয়ে এই নির্মাতা বলেন, আজ চলচ্চিত্রের খারাপ সময় যাচ্ছে। তার শূন্যতা আমরা আজও অনুভব করছি। ও থাকলে হয়তো চলচ্চিত্রের এমন অবস্থা হতো না। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের যখন খুব খারাপ অবস্থা যাচ্ছিল তখন আমার ছবির মাধ্যমেই সালমান শাহ’র চলচ্চিত্রের আগমন হয়। সিনেমা হল বিমুখ মানুষেরা হলমুখী হওয়া শুরু করেন সালমান শাহ’র ছবির মাধ্যমে। একে একে তার সব ছবিই হিট হতে থাকে। সালমান শাহ’র ছবি মানেই ছিলো ব্যবসা সফল, ভালো ছবি এবং সুস্থ্ ছবি। দর্শকরাও লুফে নিত তার ছবি। একজন নায়কের সব ছবিই জনপ্রিয়তা পাওয়াটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। অল্প বয়সী থেকে শুরু করে বৃদ্ধ দর্শক পর্যন্ত সবাই তার সাবলীল অভিনয়ের ভক্ত ছিলো। সালমান ছিলেন এমন ব্যক্তি যার অভিনীত সব ছবিই জনপ্রিয়তা পায়।
সালমান শাহ’র জন্মদিন আজ
মাত্র তিন বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ যেসব খ্যাতিমান ও গুণী পরিচালকের ছবিতে কাজ করেছিলেন তাঁদের নাম ও ছবির তালিকা সোহানুর রহমান সোহান (কেয়ামত থেকে কেয়ামত), শিবলী সাদিক (অন্তরে অন্তরে, আনন্দ অশ্রু, মায়ের অধিকার), জহিরুল হক (তুমি আমার, সুজন সখী), গাজী মাজহারুল আনোয়ার (স্নেহ), শফি বিক্রমপুরী (দেনমোহর), দিলীপ সোম (মহামিলন), এম এম সরকার (চাওয়া থেকে পাওয়া), রেজা হাসমত( প্রেমপিয়াসী), বাদল খন্দকার (স্বপ্নের পৃথিবী), হাফিজউদ্দিন (আঞ্জুমান), দেলোয়ার জাহান ঝন্টু (কন্যাদান), মালেক আফসারী (এই ঘর এই সংসার), শাহ আলম কিরণ (বিচার হবে), বাদল খন্দকার (স্বপ্নের পৃথিবী), জীবন রহমান (প্রেমযুদ্ধ), মোহাম্মদ হান্নান (বিক্ষোভ), মোহাম্মদ হোসেন (প্রিয়জন), মতিন রহমান (তোমাকে চাই), তমিজ উদ্দিন রিজভী (আশা ভালোবাসা), নাসির খান ( স্বপ্নের নায়ক), আব্দুল খালেক ( স্বপ্নের ঠিকানা), ছটকু আহমেদ ( সত্যের মৃত্যু নেই), কাজী মোরশেদ (শুধু তুমি), জাকির হোসেন রাজু (জীবন সংসার) ।
