শিক্ষকের প্রহারে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী আহত

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৪:০১
 
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ৯৮ নং দক্ষিণ জলিরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিবীদিতা রায়ের বিরুদ্ধে।
 
পূজা বৈরাগী জানায়, প্রতিদিনের মতো গত রবিবার সকাল ৯ টায় স্কুলে যায় এবং ৯.৩০ মিনিটে ক্লাস শুরু হওয়ার কিছু সময় পর তার প্রসাবের বেগ পেলে শ্রেণি শিক্ষিকা ও প্রধান শিক্ষিকা নিবীদিতা রায়ের নিকট বাহিরে যেতে অনুমতি চায়। কিন্তু এ সময় ঐ শিক্ষিকা অন্য এক শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলছিল। এ সুযোগে পুজা প্রসাব করে বাহির থেকে ক্লাসে ফিরে এলে  শিক্ষিকা নিবীদিতা পুজাকে অনুমতি না নিয়ে বাহিরে যাওয়ার অপরাধে  লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে।
 
এ সময় লাঠির আঘাতে তার শরীর ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গেলে  সেখানে সে অজ্ঞান হয়ে পরে।
 
পূজার মা মিলী বৈরাগী যানায়, আমার মেয়েকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সামান্য অপরাধে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে। সে এখন  হাত দিয়ে ভাত খেতে পারছেনা। পিটুনির ভয়ে আর ঐ বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। সে এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে।
 
প্রধান শিক্ষিকা নিবীদিতা রায় জানান, পুজা না বলে ক্লাসের বাহিরে যাওয়ার অপরাধে আমি (বেত দিয়ে) দুইটি বাড়ি দিয়েছি। এটা আমার ভুল হয়েছে। আমি পুজার পরিবারের নিকট ক্ষমা চেয়েছি এবং আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছে।
 
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি  সুকুমার বাকচী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, আমরা কমিটির লোকজন ডেকেছি আগামীকাল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
 
এ ব্যাপারে  উপজেলা শিক্ষা অফিসার নরেন্দ্রনাথ মৈত্র জানান, প্রধান শিক্ষিকা নিবীদিতা রায় ঘটনাটি স্বীকার করে আমাকে জানিয়েছে। আমি তাকে ক্ষমা করিনি, লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।
 
ইত্তেফাক/আরএ